চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাসার ছাদ দেখাতে নিয়ে গিয়ে শিশু সামিয়াকে ধর্ষণ করে হারুন

রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামে শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে (৭) বাসার ছাদ দেখাতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত হারুন অর রশীদ। ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আসামি হারুন স্বীকার করেছে৷

রোববার দুপুর দুইটায় মিন্টো রোডের মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার সকাল সাড়ে এগারোটায় কুমিল্লার তিতাসের ডাবরডাঙ্গা এলাকা থেকে অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষণকারী মো. হারুন অর রশীদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

আব্দুল বাতেন বলেন, নৃশংস এ ঘটনাটি শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে ছয়টার মধ্যে ঘটে। সামিয়ারা ওই ভবনের ছয় তলায় থাকত। আর আটতলায় থাকত পারভেজ নামের এক রঙ ব্যবসায়ী। ওই রঙ ব্যবসায়ীর খালাতো ভাই ধর্ষণকারী হারুন অর রশীদ।

আসামীর স্বীকারক্তি অনুসারে তিনি আরও জানান, শুক্রবার হারুন সন্ধ্যায় পারভেজের বাসায় আসে কিন্তু তার ভাবী ঘুমিয়ে থাকায় সে বের হয়ে যায়। এরই মধ্যে সালামের মেয়ে সামিয়া আটতলায় পারভেজের ছোট ছেলের সঙ্গে খেলতে আসছিল। সামিয়াকে লিফটে দেখে হারুন। ঠিক তখনই হারুনের বিকৃত রুচির মানসিকতা দেখা দেয় এবং সামিয়াকে বাসার ছাদ দেখানোর কথা বলে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের পরে গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে নির্মাণাধীন ছাদের রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

ডিবির সংবাদ সম্মেলন

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি হারুন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছে৷ আমরা আজই তাকে আদলতে পাঠাবো এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করার মতো চার্জশিট দাখিল করব।

এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কোন শত্রুতা ছিল না। শুধুমাত্র বিকৃত মস্তিষ্কের চিন্তা থেকেই এ ঘটনাটি হারুন ঘটিয়েছে।

কেন এমন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেন এসব হচ্ছে, এটা সমাজ বিজ্ঞানীরা ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবে। এসব নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত।  এটা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। বিকৃত রুচির আচরণ। অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় আসামি ধর্ষণের পর যখন বুঝতে পারে যে এ  কাজের জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তখন সে ভুক্তভোগীকে হত্যা করে’।সামিয়া ধর্ণ-হত্যা

শনিবার সকালে শিশুর বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের বাসার পাশের একটি নবনির্মিত ভবনটির ৯ তলার ফাঁকা ফ্ল্যাট থেকে সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

Bellow Post-Green View