চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাসার কাজের লোকদের কষ্টগুলোও ফিল করছি: ইমন

ঘরবন্দি তারা:

‘আমাদের ঘরের নারীরা সারাবছর প্রায় বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকে। এখন বুঝতে পারছি সবসময় বাসায় থাকাটাও অনেক কষ্টের। বাসার কাজের লোকদের কষ্টগুলোও ফিল করছি’

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে থমকে গেছে সারাবিশ্ব। বাংলাদেশও নয় ব্যতিক্রম। মরণব্যাধী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ঘরবন্দি সবাই। নাটক, থিয়েটার ও চলচ্চিত্র অঙ্গনেও পড়েছে এর প্রভাব। করোনার কারণে কাজ নেই শোবিজ অঙ্গনের ব্যস্ত তারকাদেরও। ঘরে বসেই কাটছে তাদের দিন রাত। কী করছেন তারা? ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তারা কি শঙ্কায় আছেন?

হোম কোয়ারেন্টাইনের এই সময় ও সংকট নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন চিত্রনায়ক ইমন। গেল মাস থেকেই বসুন্ধরার বাসায় বসে দিন কাটছে তার। কেমন আছেন তিনি?

আপনি ঘরবন্দি কবে থেকে? দিন কাটছে কীভাবে?
গত ২৪ মার্চ থেকে বাসার বাইরে বের হই না। প্রথমে সপ্তাহখানেক খাওয়াদাওয়া আর ঘুমের মধ্যেই গেছে। মনে করেছিলাম হয়তো ধীরে ধীরে ঠিক হবে। কিন্তু দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। শুরু করলাম ছবি দেখা। কদিন পর তাও ভালো থাকলো না। এরপর বইপড়া, শারীরিক অনুশীলন শুরু করেছি। হঠাৎ কিছু খেতে মন চাইলে ইউটিউব থেকে দেখে রান্নার চেষ্টা করছি। যেহেতু এখন কাজের লোকও আসছে না, টুকটাক বাসার কাজ করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমি কাজ না করলে দেখা যায়, বাসায় অনেক কাজ জমে যাচ্ছে। এসব করতে গেলে মনে হয়, এভাবেই আর কতদিন? আগে সময়মত নামাজ আদায় হতো না, কিন্তু এখন টাইম টু টাইম নামাজ আদায় করতে পারছি। কোরআন শরীফের বাংলা তরজমা পড়ছি।

বিজ্ঞাপন

ঘরে থাকতে থাকতে কোনো ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছন?
আগে পরিবারকে সেভাবে সময় দেয়া হতো না। এখন তো একসাথে তিনবেলা খেতে পারছি, পরিবারের সাথে পূর্ণ সময় ব্যয় করতে পারছি। এতে করে ফ্যামিলি বন্ডিং মজবুত হচ্ছে। আগে তো বাসায় ফিরতেই দেরি হতো। দিনে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। আর একটা জিনিস ভালোভাবে বুঝলাম, আমাদের ঘরের নারীরা সারাবছর প্রায় বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকে। এখন বুঝতে পারছি সবসময় বাসায় থাকাটাও অনেক কষ্টের। বাসার কাজের লোকদের কষ্টগুলোও ফিল করছি। তারা যে কাজগুলো করে তার যথাযথ পারিশ্রমিক আমরা দিতে পারিনা। এই জিনিসগুলো বারবার আমার মধ্যে নাড়া দিচ্ছে। আমার কাছে সবকিছুই নিয়মের মধ্যে এলেও ঘুমটা অনিয়মিত হয়েছে। কখন ঘুমাই কোনো ঠিক নেই।

আপনার ‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ (আকবর) এবং ‘ব্লাড’ এই দুই ছবির ভবিষ্যৎ কী?
গতবছর ‘পাসওয়ার্ড’ করার পর আমি যেন ঠিক রাস্তার দেখা পেয়েছিলাম। এরপরে আকবর এবং ব্লাড দুটি ছবি দিয়ে আমার চলার রাস্তা আরও মসৃণ হতে যাচ্ছে। প্রায় চারমাস ধরে আকবরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে আসছিলাম। প্রযোজক, পরিচালক যখন গল্প নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হলেন তখনই আটকে দিল করোনা। এর সাথে ‘ব্লাড’ এর কাজেও লেগে যেতাম। সবকিছুই যখন গুছিয়ে আনলাম শুটিংয়ের এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হলো করোনা প্রকোপ। এর পাশাপাশি আরও দুটি বড় ছবির কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু সবকিছু উল্টে দিল করোনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তো কিছু বলা যাচ্ছে না। আগে জীবন, পরে কাজ।

মানসিক চাপ কাজ করছে কিছুটা?
কাজের মানুষ, সবসময় কাজ নিয়েই ছিলাম। দিনের পর দিন বসে থাকতে থাকতে হতাশ হয়ে যাচ্ছি। মুখে মুখে সবাই বলছে ভালো আছি, ভবিষ্যৎ ভাবলে সত্যিকার অর্থে কেউ ভালো নেই। সবাই অনিশ্চয়তায় পড়ে চরমভাবে মানসিক চাপে আছে। ফোনে বিভিন্নজনের খোঁজখবর নেওয়ার সময় বুঝতে পারি, সবার মনের মধ্যে আহাজারি। ইন্ডাস্ট্রির কোনো শিল্পী ভালো নেই। কেউ আমাকে ভালো খবর দিতে পারেনি। আমাদের বড় বড় শিল্পী যারা আছেন তারাও মনে কষ্ট আড়াল রেখেছেন। এখন ভালো থাকলেও এভাবে চলতে থাকলে আমরাও ভালো অবস্থায় থাকবো না। এ নিয়ে আমি ভেতরে ভেতরে ভীষণ আপসেট।

অনেক শিল্পী সামর্থ্যের মধ্যে থেকে অসচ্ছলদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। আপনাকে দেখা যায়নি?
ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি আমাদের শিল্পী সমিতি থেকে এটা করছে। সবার আগে কাছের বন্ধু।যারা অসচ্ছল মানুষ, অভাবে থাকলেও মুখ ফুট বলবে না তাদের পাশে আমি আছি। আমি আমার সামর্থ্যের মধ্যে কিছু না কিছু করে যাচ্ছি। আমার চারপাশে কাছের তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা মানুষগুলো ভালো রাখার দায়িত্ব আমার। আমি আমার কাজটা ঠিকভাবে করছি। তবে অন্যকে সাহায্য করা নিয়ে মিডিয়াতে জানাতে চাইনা।

দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কোন দুটি কাজে আগে করবেন?
আব্বা আম্মা আমার সাথে থাকে। কিন্তু গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে আটকে গেছে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথমেই আব্বা আম্মাকে আনতে যাবো। এরপর যারা আমার একেবারেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু সার্কেল, সহকর্মী, আপনজন মানে আমার প্রিয় মুখগুলোকে দেখতে চাইবো।