চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বার্সার দুঃস্বপ্নের রাতে সুপার কাপ রিয়ালের ঘরে

পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় মাঠে ছিলেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজকে নিয়ে দর্শক সারি থেকে দলকে ঠিকই সমর্থন যুগিয়েছেন সিআর সেভেন। তাতে আরও জ্বলে উঠলো দল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বুধবার রাতে বার্সেলোনাকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপাও উঠলো রিয়াল মাদ্রিদের ঘরে।

স্প্যানিশ কাপের দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। এতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে শিরোপা উঠেছে জিনেদিন জিদানের দলের হাতে।

জোরাল শব্দে না হলেও মৃদু কণ্ঠে নিজের ইচ্ছার কথার জানিয়েছিলেন আর্নেস্টো ভালভার্দে। হতে চান বার্সেলোনার আরেকটি রূপকথার নতুন কারিগর। কিন্তু সেই চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে বিশাল পার্থক্য গড়লেন আসেনসিও।

রোনালদো নেই। গ্যারেথ বেল ও ইসকোকেও একাদশের বাইরে রাখেন জিদান। গুরুত্বপূর্ণ তিনের অনুপস্থিতিতে নায়ক আসেনসিও। প্রথম লেগের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দারুণ এক গোল করেছিলেন, ঘরের মাঠে করলেন দর্শক নড়েচড়ে বসার আগেই।

শুরু থেকেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কোণঠাসা করে রেখেছিল স্বাগতিকরা। সেটারই ফল মিলেছে হাতেনাতে। তরুণ ফরোয়ার্ড মার্কো আসেনসিও চার মিনিটেই দেখিয়েছেন ভেলকি। ডি-বক্সের বাইরে ৩০ গজ দূর থেকে দারুণ এক জোরাল শটে বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেনকে দর্শক বানিয়ে গোল আদায় করে নেন রিয়ালের যুব একাডেমী থেকে উঠে আসা এই ফরোয়ার্ড। এই নিয়ে রেকর্ড টানা ৬৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করল রিয়াল।

গোল পেয়েই আরও তেঁতে ওঠে রোনালদোবিহীন রিয়াল। ম্যাচের ১১ মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে উঠে আসা মার্সেলোর ক্রসে করিম বেনজেমা মাথায় ছোঁয়াতে পারলে ব্যবধানটা হতে পারতো দ্বিগুণ।

বিজ্ঞাপন

সুযোগ হারিয়েছে বার্সাও। চোটের কারণে ইনিয়েস্তার অনুপস্থিতে মিডফিল্ডার বনে যাওয়া মেসি ১৬ মিনিটে বিপদজ্জনক ভাবে ঢুকে গিয়েছিলেন রিয়াল রক্ষণে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্বাগতিক গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের দক্ষতায় গোলবঞ্চিত হয়েছেন বার্সা অধিনায়ক।

মাঠে ভাসকুয়েজ-আসেনসিও জুটি বার্সাকে ভুগিয়েছে বেশ। ৩৩ মিনিটে আসেনসিওর পাসে লুকাস ভাসকুয়েজের শট বারে লেগে ফিরে না আসলে ব্যবধানটা দ্বিগুণ হতে পারতো তখনই।

কিন্তু ৩৯ মিনিটে ভাগ্যকে আর পাশে পায়নি মেসির দল। আবারও বামপ্রান্ত দিয়ে উঠে এসে ফাঁকায় দাঁড়ানো বেনজেমাকে নিচু ক্রস দিয়েছিলেন মার্সেলো। সেই নিচু ক্রসকেই হাফ-ভলি বানিয়ে গোল সংখ্যা ২-০ করে দেন ফরাসি তারকা বেনজেমা।

দ্বিতীয়ার্ধে বারবার পরিবর্তন করেও সৌভাগ্যের দেখা পায়নি বার্সা। বরং, বেনজেমা-আসেনসিওরা প্রথমার্ধের মতই আতঙ্ক ছড়িয়ে গেছেন কাতালান রক্ষণে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বেনজেমার একটি উড়িয়ে মারা বল কোনপ্রকারে হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন বার্সা গোলরক্ষক।

ফরোয়ার্ড থেকে মিডফিল্ডার বনে যাওয়া মেসিও চেষ্টা করেছেন বারকয়েক, রিয়াল রক্ষণে হানা দেওয়ার। কিন্তু আটকে গেছেন। সুয়ারেজ ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। নেইমারের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বামপ্রান্তে একাধিকবার জনমানববিহীন জায়গায় পাস দিয়েছেন মেসি-সুয়ারেজ।

ম্যাচের ৭০ মিনিটে গোলের একটি সুবর্ণ সুযোগ হারিয়েছেন সুয়ারেজ। মেসির একটি জোরাল শট ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন রিয়াল গোলরক্ষক। ফিরতি বলে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থেকেও মাথা ছুঁয়ে জাল খুঁজে নিতে পারেননি উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড।

আরেকটি শিরোপা ছোঁয়ার সময় যতই ঘনিয়ে এসেছে ততই মরিয়া খেলেছেন রিয়াল ফুটবলাররা। শেষ পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে গেছেন বার্সা রক্ষণে। আর অন্যপ্রান্তে যেন মিশে ছিল নেইমারের অভাব। বার্সার প্রতিটি আক্রমণে ব্রাজিলিয়ান তারকার শূন্যস্থানটা যেন শেল হয়ে বিঁধেছে কাতালানদের বুকে। শেষ পর্যন্ত তাই হাহাকারই নিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছাড়াতে হয়েছে। দেখতে হয়েছে জিদান শিষ্যদের মৌসুমের চতুর্থ শিরোপার উল্লাস। এই নিয়ে ১০ম বার স্প্যানিশ কাপের শিরোপা জিতল রিয়াল। আগেরটা জিতছিল ২০১২ সালে, বার্সাকে হারিয়েই।

বিজ্ঞাপন