চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বাণিজ্য বাধা কাটলে সিআইএসভুক্ত দেশে রপ্তানি বাড়বে’

বাণিজ্য বাধা দূর হলে উজবেকিস্তানসহ কমনওয়েল্থ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট বা সিআইএসভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি অনেকগুণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন উজবেকিস্তানে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে ১০ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তান টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশন আয়োজিত “উজবেকিস্তান টেক্সটাইল কনফারেন্স এবং ৫ দিনব্যপী গ্লোবাল টেক্সটাইল ডে” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। বিশ্ববাজারে দিন দিন তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছে। একের পর এক গ্রীণ ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ উজবেকিস্তানসহ কমনওয়েল্থ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট বা সিআইএসভুক্ত দেশ- আজারবাইজান, বেলারুশ, কাজাখাস্তান, কিরগিস্তান, আরমেনিয়া, মলডোভা,  রাশিয়া, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান) দেশসমূহে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাণিজ্য বাধা দূর হলে রপ্তানি অনেকগুণ বাড়বে।

১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাশিয়া সফরের আগে তাসখন্দ সফরের কথা স্মরণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী  বলেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে প্রত্যাশা মোতাবেক পণ্য উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে না। জটিলতা নিরসনে উজবেকিস্তানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিআইএসভুক্ত দেশ সমুহের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত মে মাসে ইউরেশিয়ান ইকনোমিক কমিশনের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানে রপ্তানি করেছে ২৯ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, একই সময়ে আমদানি করা হয়েছে ১৯৩ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা ও বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে।

বিজ্ঞাপন

উজবেকিস্তানের ওই সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ, তুরস্কের রাস্ট্রদূত, আইএলও, আইএফসি প্রতিনিধিগণ। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনায় তৈরি পোশাক খাতের বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতির হাল নাগাদ চিত্র তুলে ধরা হয় এবং তাতে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ’র সাথে দ্বি-পাক্ষিক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, উজবেকিস্তান বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধুরাষ্ট্র। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশ বাংলাদেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগ শুরু করেছে।

উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যবৃদ্ধি করার কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়া, জাতপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস্ ইত্যাদি আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তনের চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ফোরামের রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যোগদান করেন।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ছাড়াও পর্যটন, যৌথ বিনিয়োগ, ঢাকা-তাসখন্দ সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বাংলা্দেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তান সরকারের ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় উভয় পক্ষ দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

Bellow Post-Green View