চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাজেট হোক সাধারণ মানুষের স্বচ্ছলতার দিকনির্দেশনা

গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমাণ ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা দেশের মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৬৪ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বেশি। বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ না থাকলেও এটি আসলে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব রাখে। আগে বিরোধীদলগুলো বাজেটের ভালোমন্দ নিয়ে কথা বলত এখন কিছু গঁৎবাধা বাক্যের ফুলঝুরি ছাড়া কোনো প্রেস রিলিজ নাই।

সিপিডি এই ক্ষেত্রে বরাবরই একটি গঠনমূলক সমালোচনা করে আসছে। তারা সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে তার থেকে উত্তরণের পথও বাতলে দেয়। নাগরিক সমাজের এই দায়িত্ব সরকার কতটা আমলে নেয় সেটা দেখার বিষয়। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটেও সিপিডি বেশ গঠনমূলক আলোচনা করেছে। তারা বলছে: প্রস্তাবিত বাজেটে জীবন ও জীবিকার যে কথা বলা হয়েছে, তার স্বচ্ছ কোনো রূপরেখা নেই। স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়ার কথা, প্রস্তাবিত বাজেটে তা দেয়া হয়নি। সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও বলা হয়: প্রস্তাবিত বাজেটটি অনুমিতির জায়গা থেকে তৈরি করা হয়েছে। এখানে রাজস্ব আদায়ে কাঠামোগত দুর্বলতা আছে। করোনাকালে সামাজিক নিরাপত্তায় কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ বাড়েনি। যেটা বেড়েছে সেটা সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশনের কারণে বেড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ বাড়েনি। করোনাকালে নতুন করে যারা কর্মহীন হয়েছেন, বাজেটে তাদের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। বাজেটের একটা দর্শন আছে। সেটি হলো আয়বৈষম্য, ভোগবৈষম্য, সংকটবৈষম্য দূর করার দর্শন। কিন্তু বাজেটে এই বৈষম্য দূর করার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। উল্টো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতকে প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তারা কি বিনিয়োগে আসবে? প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করা উচিত ছিল সরকারের। কারণ সাধারণ মানুষের হাতে টাকা দিলে তারা সেটা খরচ করতেন, এতে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসত। সেজন্য এখনও যে সময় আছে তার মধ্যে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি করছে সিপিডি। যা প্রস্তাবিত বাজেটে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সামান্য বাড়লেও করোনা মহামারির পর বেকারত্বের বিশাল ধাক্কা সামাল দেয়ার মত কোনো বরাদ্দ নেই। এমনকি দিকনির্দেশনাও নেই। দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির কোনো প্রকল্প না থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে না। এই সময়টাতে বিশ্ব অর্থনীতিসহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভয়াবহ সংকটের মুখে। মধ্যবিত্তের জীবনে নেমে আসছে ভয়বহ সংকট। এখানে কর্পোরেটদের কর কমিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পের কর বাড়ানো ধনীকে আরও ধনী করে দেয়ার চেষ্টা। আমরা আশা করি সরকার সিপিডি মূল্যায়ণ ও দেশের সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার পথ প্রশস্ত করতে বাজেট যেন মানুষের কল্যাণে আসে। নচেৎ সব উন্নয়ন প্রচেষ্টা দ্রিুতই অকার্যকর হয়ে পড়বে।