চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাইডেনের জয়ে চীনা টেক কোম্পানিগুলোতে স্বস্তি, আছে উদ্বেগও

ডেমোক্র্যাট দলীয় জো বাইডেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় চীনা কোম্পানিগুলো স্বস্তি পেলেও একেবারে নিরুদ্বেগ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের সময় চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের দ্বন্দ্ব ছিলো দৃশ্যমান।  জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি দাবি, গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ সহ নানা অজুহাতে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর চড়াও হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ক্ষতির মুখোমুখি হয়।

বিজ্ঞাপন

এখন নতুন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।  এসেন ডেমোক্র্যাট দলীয় জো বাইডেন। এতে করে স্বস্তি পেয়েছে চীনা কোম্পানিগুলো।

জো বাইডন ক্ষমতায় আসায় চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গঠনমূলক হবে মনে করলেও প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বীতা হ্রাস পাবে- এমনটা খুব কম লোকই মনে করেন।

এই বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব ঝেজিয়াংয়ের অধ্যাপক ফ্যাং জিংডং বলেন, বাইডেন তার দায়িত্ব গ্রহণ করলে চীনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলো স্বস্তি পেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অন্ততপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সীমাবদ্ধতা হ্রাস করবে, আলোচনার পথ খোলা রাখবে, সম্মানজনক ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং নতুনত্ত্বের উদ্ভাবনের জায়গায় বাধা তৈরি হবে না’।

তবে তিনি এটিও মনে করেন যে, উচ্চ প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা ও গেম তত্ত্বের অবসান হবে না এবং আগামী দশকে উদ্ভাবনী ক্ষমতা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকির অজুহাত তুলে চীনা টেক জায়ান্ট হুয়াওয়ে টেকনোলজিস, টিকটটের ওপর নানা শর্তারোপ করেন।

ট্রাম্প হুমকি দেন, টিকটক বিক্রি না করলে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হবে। এ জন্য সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন তিনি।  শর্ত দেন যে, ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টিকটক কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি না হলে এটি নিষিদ্ধ করা হবে।

এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কোম্পানির  বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ট্রাম্পের ঘোষণায় গুগল-মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান চীনা কোম্পানির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের শেয়ার কিনে নেয় ওরাকল করপোরেশন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাইডেন তার ক্ষমতা গ্রহণের পর চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর অযাচিত নিষেধাজ্ঞা হ্রাসে ব্রত হতে পারেন।  যদিও একেবারে নিরুদ্বেগ হওয়ারও উপায় নেই বলছেন তারা। কারণ চীনা-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক লড়াই এখন পরিপূর্ণ দৃশ্যমান।