চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলা ছবি দেখবো না, এই চিন্তা বাদ দিতে হবে: তাসকিন

বাচ্চাদের স্কুলের গাড়িতে মারাত্মক বোমা হামলা দিয়ে শুরু, এরপর দোয়েল চত্বর উড়িয়ে দেয়া, বোমা হামলায় হাসপাতাল উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা আর পতাকা দিবসে হাজারো শিশুর প্রাণনাশের পরিকল্পনার একজনই ছিলেন মাস্টারমাইন্ড। যার নাম ছিলো হাসনাত করিম জিসান। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রটি যারা দেখেছেন, তাদের কাছে এই দৃশ্যগুলো জলজলে পরিষ্কার। জিসান নাম নিয়ে এই ছবিতে এমন বিধ্বংসী চরিত্রে অভিনয় দিয়েই ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল তাসকিন রহমানের। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় তার বসবাস। তবুও প্রথম ছবির তুমুল জনপ্রিয়তা পর এবার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘যদি একদিন’ ছবির শুটিংয়ের জন্য তিনি এখন ঢাকায়। চলছে ছবির শুটিং। শুটিংয়ের ফাঁকে তাসকিন রহমান চলচ্চিত্র নিয়ে তার বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে…

বিজ্ঞাপন

‘যদি একদিন’ ছবির সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?
‘ঢাকা অ্যাটাক’ মুক্তির পরে মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের সঙ্গে এই ছবি নিয়ে কথা হয়। তিনি আমাকে গল্পটা শোনালেন, ভালো করে বোঝালেন। শুনেই ভালো লেগে যায়। শুধু ভালো নয়, খুবই ভালো লেগে যায়। এই ধরণের একটা গল্পে কাজ করার জন্য মনে মনে খুঁজছিলাম। মানুষ আমাকে ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ যে চরিত্রে দেখে অভ্যস্ত হয়েছে, সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছিলাম। যদিও নতুন এই ছবির গল্প বলা নিষেধ। এরপর এই গল্পটা নিয়ে যখন আরো আলোচনা করলাম, তখন মনে হলো এই গল্পে কাজ করার উপযুক্ত সময় এখন।

‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ ছিলেন সাইকো-সিরিয়াল কিলার। ‘যদি একদিন’ ছবিতে আপনার চরিত্রটি কেমন?
‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, ‘যদি একদিন’-এ ঠিক তার উল্টো চরিত্রে কাজ করছি। এই চরিত্রটি দেখলে অনেকে আমার আগের চরিত্র ভুলে যাবেন। রোমান্স থাকবে কিছুটা, বাকিটা চমক।

নির্মাতা হিসেবে মোস্তফা কামাল রাজকে কেমন মনে হচ্ছে?
অসাধারণ। ওনার (রাজ) সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে উনি মানুষের শিল্পীর সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। তার ভিতর থেকে যেকোনোভাবে কাজ আদায় করে নিতে পারেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, উনি ভালো মানুষ, বন্ধু। ভালো মানুষ বলেই ভালোভাবে কাজ আদায় করে নিতে পারেন। কথাগুলো তাকে খুশী করার জন্য বলছিনা, মন থেকেই বলছি।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ মুক্তির সময় দেশের দর্শকরা আপনাকে নিয়ে বেশ মাতামাতি করেছে। কিন্তু আপনি তখন অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। টের পেয়েছিলেন কিছু?
কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম। তাছাড়া ছবির ডিরেক্টর, কলাকুশলীদের মাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমের বরাতে জেনেছিলাম মানুষ আমাকে নিয়ে মাতামাতি করছেন। সরাসরি উপভোগ করতে না পারলেও দূরে বসে অনুধাবন করেছি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঢাকা অ্যাটাক ছবিটা এখনও পুরোটা দেখা হয়নি আমার, হা হা হা…!

বলেন কি!
ঠিকই বলেছি। অস্ট্রেলিয়ার মাল্টিপল স্ক্রিনিংয়ে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে প্রমোশনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এক জায়গায় বসে পুরো ছবিটা এখনও দেখিনি শুধু মাত্র ব্যস্ততার কারণে।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ মুক্তির পর নায়ক-নায়িকার চেয়ে আপনাকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
এটা বিভিন্ন জনের অভিব্যক্তি। ঢাকা অ্যাটাক হচ্ছে ফেয়ার অ্যান্ড সারভাইবাল গল্পের ছবি। ফেয়ার হচ্ছেন একজন টেরোরিস্ট এবং সারভাইবাল সবাই মিলে। এখানে ভিলেনের চরিত্রটি শুধু ভিলেনের নয়। মানুষ ভিলেন হয় তখন, যখন সে ভালোবাসা পায়না। এই ছবিতে আমি (জিসান) কখনো ভালোবাসা পাইনি। তাই কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। মানুষ এটা বেশি ক্যাপচার করেছে। এই ছবিতে আমার চরিত্রে কিছু এলিমেন্টস ছিল। চরিত্রের মধ্যে এক্সপেরিমেন্টাল, ইমোশনাল ও এনগেজমেন্ট ছিল। সবমিলিয়ে জিসানের চরিত্রটি ছিল গতানুগতিকের বাইরে একটা চরিত্র। বাংলাদেশের ভিলেনদের চরিত্রে যেটা দেখা যায়, তার বাইরে ছিল। বলতে পারি, আমার চরিত্রে নতুন ফরম্যাট ছিল। এ আমি নিজের কাজে ভীষণ হ্যাপী।

এদেশের নির্মাতারা আপনাকে নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। আপনি এই বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছেন?
শুধু আমি নই, সবাইকে নিয়ে ভাবা উচিত। চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য এখন সময়টা বেশ ভালো। বাংলা ছবি দেখবো না, এই চিন্তা বাদ দিতে হবে। আমাদের দেশের ছবির মেকিংয়ে বৈচিত্র আসছে। সামনে আরো ভালো ছবি আসছে। নিজের কথা বলতে গেলে, আমার সঙ্গে বেশ কয়েকজন নির্মাতার কথা চলছে। আমি খুব বেছে বেছে কাজ হাতে নিচ্ছি। আমি ছবি নিয়ে ভাবছি। অস্ট্রেলিয়া থাকলেও এই বছরের বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশে থাকতে হবে। কারণ এই বছরটা আমি চলচ্চিত্রের পিছনে ব্যয় করবো। অভিনয়টা পেশা হিসেবে আগেই নিয়েছি, এবার আরো সিরিয়াসভাবে নিচ্ছি। কারণ, আমার কাছে অনেক ভালো ভালো ছবি আসছে। ঠিকভাবে যদি আমি কাজে লাগাই, তবে মনে হচ্ছে সাকসেস পাব।

ছবি: তাসকিনের ফেসবুক থেকে

বিজ্ঞাপন

নায়ক হতে ইচ্ছে করে না?
কথা চলছে দেখা যাক কি হয়। আর নায়ক হওয়াটা ব্যাপার না। চরিত্রে ভার্সেটালিটি লাগবে। দক্ষতার সঙ্গে যে চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে পারব, সেই চরিত্রে কাজ করব। আমার অভিনয় দিয়ে যতভাবে এক্সপ্লোর করা যায় আমি প্রস্তুত আছি। এটাই নির্মাতাদের কাছে একমাত্র চাওয়া।

আপনার অভিনীত মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিগুলো…
আদি, মৃত্যুপুরী দুটি ছবির কাজ শেষ। আদি হয়তো আগামী মার্চে মুক্তি পেতে পারে। আর মৃতুপুরীর কাজও পুরোপুরি শেষ। কবে মুক্তি পাবে নির্মাতাই ভালো জানেন। এছাড়া অপারেশন অগ্নিপথ নামে আরো একটি ছবিতে কাজ করেছি। এই ছবির নির্মাণ কাজ ঝুলে আছে। শেষ পর্যন্ত কি হয় বলা যাচ্ছেনা। আর ‘যদি একদিন’-এ তো কাজ করছি। আরো কিছু ছবিতে কথা চলছে। হয়তো ভাল খবর জানাবো শিগগির।

আপনি অস্ট্রেলিয়াতে কী করেন, কবে থেকে আছেন ওখানে?
প্রায় ১৭ বছর ধরে আমি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে থাকি। ওখানে আমি ক্রিয়েটিভ কাজই করি। একটি চাকরি করি, ওটা সরকারী। পুলিশদের সঙ্গে আমার কাজ, ক্রাইম স্টপ ডিভিশনে কাজ করি। যখন কোথাও ক্রাইম হয়, তদন্ত করাই আমার কাজ। কেমিক্যাল ডিপার্টমেন্টেই আমার কাজ। ২০০২ সালে এখানে এসে আমি শুরুতে ফরেনসিক সায়েন্সের ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রি করেছি। এরপর মাস্টার্স করেছি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। বিজনেস অ্যাডমিনের ওপর ডিপ্লোমাও করেছি। ইচ্ছে আছে নিউরো সায়েন্স নিয়ে পিএইচডি করার। তাই আমি কিছু গবেষণা করছি।

আগেই বলেছেন, অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। এমন ভালো চাকরি ফেলে দেশে এসে অভিনয় করাটা চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছেন না?
মানুষের জীবনে একটা সময় আসে, যখন তাকে একটা কাজ করতে হবে, আরেকটা কাজ তার করতে ইচ্ছে করে। এখন আমি আমার লাইফের পারপাস বুঝে গেছি। আমার লাইফের পারপাস হচ্ছে ক্রিয়েট করা। আমি চাইলে প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারি। এতে করে আমার মনের ক্ষুধা মিটবে না। অস্ট্রেলিয়াতে আমার সবকিছু ঠিক রয়েছে। এখন আমার স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দেয়াই আমার কাজ। আর আমার স্বপ্ন হচ্ছে চলচ্চিত্র ও ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে।

সিডনিতে থেকে সেখানকার মিডিয়ার কোনো কাজ করেছেন?
মডেলিং করেছি এবং চার বছর আগে সেখানকার একটি সিরিয়ালে কাজ করেছি। তবে ওটা খুব বড় কিছু ছিলনা আমার জন্য। আমি নাটকের উপর একটা কোর্স করেছিলাম সিডনিতে। কোর্সটা শেষ করা হয়নি শুধুমাত্র সময়ের কারণে। এটাও বলে রাখি, অভিনয়ের জন্য আমার কোনো একাডেমিক কোয়ালিফিকেশন নেই।

অভিনয়ে আপনার শুরুটা জানতে চাই…
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) তে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছি। আমি ছিলাম সেখানকার নিবন্ধিত শিশুশিল্পী। ১৯৯৮-৯৯ সাল পর্যন্ত আমি নিয়মিত বিটিভিতে কাজ করেছি। ২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়া চলে যাই। এরপর গ্যাপ পড়ে যায় অভিনয়ে। ২০১৪ সালে আবার ফিরে আসি। এসে তানিম রহমান অংশুর ‘আদি’ ছবিতে কাজ করেছি।

ছবি: সাকিব উল ইসলাম

Bellow Post-Green View