চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

বাংলা একাডেমিতে রাবেয়া খাতুনকে শ্রদ্ধা নিবেদন

Nagod
Bkash July

বাংলা একাডেমিতে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শিল্প সাহিত্যি ও সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ ছাড়াও এদিন দুপুর ১২টায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Reneta June

এদিন সকাল ১১টা থেকেই বাংলা একাডেমিতে জড়ো হন নবীন প্রবীণ সাহিত্যিকরা। ১২টার দিকে রাবেয়া খাতুনের মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আনা হয়। পরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ নজরুল মঞ্চের বেদিতে রাখা হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এদিন রাবেয়া খাতুনকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এছাড়া বাংলা একাডেমির সভাপতি ও মহাপরিচালক ছাড়াও সংশ্লিষ্টরা শেষবারের মত শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন রাবেয়া খাতুন। অর্ধ শতাধিক উপন্যাস ও চার শতাধিক গল্প লিখেছেন তিনি। এমন একজন লেখিকার চলে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি। তারচেয়ে বড় কথা, তিনি যেই সময়ে সাহিত্য রচনা শুরু করেছিলেন, সেসময়ে নারীদের ক্ষেত্রে সেটা খুব সহজ ছিলো না। কিন্তু তিনি তার কাজে সফল হয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলা সাহিত্যে রাবেয়া খাতুনের মতো খুব বেশি লেখিকা পাওয়া যাবে না, তার প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। প্রার্থনা করছি, তার আত্মা যেন শান্তি পায়।

তিনি আরো বলেন, রাবেয়া খাতুন শুধু বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেননি বরং তিনি তার পরিবারকে একটি সংস্কৃতিমনা পরিবার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ফরিদুর রেজা সাগর তার সন্তান, যিনি চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতিকে দারুণভাবে তুলে ধরছেন। লালন করছেন, ধারণ করছেন এবং ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তার পুরো পরিবার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার সন্তানদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। রবিবার বিকালে বাধ্যর্কজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথাসহ চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতেও বিচরণ রাবেয়া খাতুনের। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘মেঘের পরে মেঘ’ জনপ্রিয় একটি চলচ্চিত্র। ‘মধুমতি’ এবং ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ও প্রশংসিত হয়েছে সব মহলে।

তার স্বামী প্রয়াত এটিএম ফজলুল হক ছিলেন দেশের চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম পত্রিকা সিনেমার সম্পাদক ও চিত্রপরিচালক। বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’ এর পরিচালকও তিনি।

১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই এটিএম ফজলুল হক ও রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তানের মধ্যে রয়েছে ফরিদুর রেজা সাগর, কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।

BSH
Bellow Post-Green View