চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকারের ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগে হতাশ কানাডিয়ান বিশেষজ্ঞ

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে হতাশা প্রকাশা করেছেন দুই কানাডিয়ান বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন: বাংলাদেশে শুধু অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়েই আলোচনা আছে। কিন্তু অনুমোদনে পথে থাকা মডার্না বা ফাইজারের ভ্যাকসিন নিয়ে কোন আলোচনা নেই। এমনকি এ দুই কোম্পানির সঙ্গে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা তারও কোন সংবাদ নেই। 

এমন পরিস্থিতিতে অনুমোদন পাওয়ার পর সারা বিশ্বে এ দুই কোম্পানির ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতে যে প্রতিযোগিতা শুরু হবে সেখানে বাংলাদেশের জন্য হতাশা দেখছেন তারা। এ ইস্যুতে সরকারের এখনই উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ তাদের।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কানাডা থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা পত্রিকার লাইভ আয়োজনে ব্রিটিশ কলম্বিয়া সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এর বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ মোরশেদ এবং মাইক্রোবিয়াল বায়োটেকনোলোজিস্ট ড. শোয়েব সাঈদ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সারা বিশ্বের কোভিড পরিস্থিতি, ভ্যাকসিনের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হলেও দুই বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশ নিয়ে তাদের মতামত দেন।

ড. শোয়েব সাঈদ তার আলোচনায় বাংলাদেশের ভ্যাকসিন সংগ্রহ থেকে সংরক্ষণ এবং বিতরণ ব্যবস্থা সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এর সাথে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত।

বিজ্ঞাপন

ড. মোহাম্মদ মোরশেদ তার আলোচনায় বলেন, মডার্না এবং ফাইজার এই দুটিই এমআরএনও ভ্যাকসিন এই প্রথম এই ভ্যাকসিটি মানবদেহে প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে একটু সংশয় ছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে কোনো ভ্যাকসিনেরই সেই অর্থে ক্ষতিকর বা চিন্তত হবার মতো কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিয়ে সারা বিশ্বেই এখন তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কার আগে কোন দেশ ভ্যাকসিন পাবে সেই প্রতিযোগিতায় অনেক দেশই আগাম অর্থ দিয়ে ভ্যাকসিন কিনে রেখেছে। ভ্যাকসিন সংগ্রহের এই প্রতিযোগিতায় অনেক দেশই ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারে।

তিনি বাংলাদেশ সরকারকে এই ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জন্য আরো একটি বিষয়ে এখন থেকেই মনোযোগ দেয়া দরকার। ভ্যাকসিন ব্যবহারের পর তার প্রতিক্রিয়া পরিমাপ এবং তা পর্যালোচনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করা দরকার। তিনি বলেন, কোভিডের ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর ইমিউন রেসপন্স ঠিকমতো হচ্ছে কী না তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় মাস্ককে ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দ্রুততম সময়ে কার্যকর একটি ভ্যাকসিন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিজ্ঞানীরা প্রাণপণ কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তার আগের সময়টায় মাস্ক এবং হাত ধোয়ার মাধ্যমে কোভিড-১৯ থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন