চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী?

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন: বাংলাদেশ ও ভারত দু’পক্ষেরই লক্ষ্য হওয়া উচিত অপরাধবিহীন সীমান্ত, যাতে করে হত্যাকাণ্ড না হয়। আমার ধারণা—আমরা দু’পক্ষ এই সমস্যার সমাধান করতে পারব।

সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেছেন: এই সমস্যার মূল কারণ কী?

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও সমস্যার বাস্তব সমাধানে কাজ করার কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকায় পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন: অপরাধ কমলে হত্যাকাণ্ডও কমবে। এতে বোঝা যায়, ভারতের পরারাষ্ট্রমন্ত্রী এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য নিহতদেরকে পরোক্ষভাবে অপরাধকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে দায়ী করেছেন। গরু বাণিজ্য, মাদক ও অবৈধ সীমান্ত যাতায়াতের মতো ঘটনা দু’দেশের আইনের চোখে অপরাধ হলেও গুলি করে নিশ্চয় মেরে ফেলা বৈধ নয়! বরং গুলি ব্যতীত এই বিষয়ে কার্যকর সমাধান খুবই জরুরি।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত কিংবা ভারত-চীন সীমান্তে দুই দেশের বৈরি সম্পর্কের কারণে চরম উত্তেজনা থাকলেও বেসামরিক লোকের প্রাণহানির ঘটনা সেখানে কদাচিৎ ঘটে। কিন্তু কোনো যুদ্ধ ও সংঘাত ছাড়াই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মত এমন বিপজ্জনক সীমান্ত পুরো পৃথিবীতে বিরল, যেখানে ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হাতে বাংলাদেশের বেসামরিক লোকের প্রাণ হারানোর ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা।

গণমাধ্যমে প্রকাশ, বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ১০ বছরে সর্বাধিক সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, ২০০০-২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কমপক্ষে ১২০০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ২০১১ সালে বিএসএফ কর্তৃক ১৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানিকে হত্যার পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান পেয়েছিল।

বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পকের রয়েছে ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত একটি আবেগের জায়গায় অবস্থান করছে। ভারতের নীতিতেও বাংলাদেশ সবার আগে বলেই সেদেশের নীতিনির্ধারকরা উল্লেখ করে থাকেন। এসব দিক বিবেচনায় সীমান্ত হত্যাসহ কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোটেও কাম্য নয়। আমাদের আশাবাদ, এ বিষয়ে দু’দেশের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ মনোযোগী হবেন।