চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি করা সন্দেহভাজন হেলেন যেভাবে প্যান্ডোরা পেপার্সে

সাড়ে পাঁচ বছর আগে পৃথিবীজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা। সেই বিপুল অর্থ চুরিতে সন্দেহভাজন ফিলিপাইনের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হেলেন ডি (Helen Dee) নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সদ্য শান্তিতে নোবেলজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা’র নিউজ পোর্টাল ‘র‌্যাপলার- এ।

র‌্যাপলার ‘প্যান্ডোরা পেপার্স’ – এ থাকা হেলেন-সহ ফিলিপাইনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেছে। যারা ভিনদেশে বেনামে বহু সম্পদ ও অর্থের মালিক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি পৃথিবীর বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রনেতা, অসংখ্য সরকারি কর্মকর্তা, সেনাকর্মকর্তা ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের গোপন লেনদেন ও সম্পদের ফাঁস করে দেয় ‘প্যান্ডোরা পেপার্স’। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস’ (আইসিআইজে) ১ কোটির বেশি নথি বিশ্লেষণ করে তা প্রকাশ করে ‘প্যান্ডোরা পেপার্স’ নামে।

র‌্যাপলারের অনুসন্ধানে উঠে আসে হেলেন ডি কিভাবে ব্যাংকিং প্রযুক্তিতে দক্ষ মায়া সান্তোস দিগুইতোকে দিয়ে ‘ইস্ট-ওয়েস্ট ব্যাংক’ থেকে তার ব্যাংকে নিয়ে আসেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি করা সেই অর্থ ‘রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন’ (আরসিবিসি) ব্যাংকের শাখায় জমা হওয়ার পর তিনি ব্যাংক চেয়ারপারসনকে জানান। দিগুইতোকে দ্রুত এই অর্থ উত্তোলন করার নির্দেশ দেন হেলেন ডি। তার নির্দেশেই পুরো টাকা দুটি ক্যাসিনো ও ফিলরিমকে দিয়ে দেওয়া হয়।

হেলেন ডি’র বিষয়ে র‌্যাপলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে দাবি করেছে, তিনি (হেলেন) আরসিবিসি- এর চেয়ারম্যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ চুরির সময় সাইবার অপরাধীরা এই ব্যাংকটিকে ব্যবহার করে।

বিজ্ঞাপন

আরসিবিসি পরিচালিত ‘ট্রেনডেন্ট ট্রাস্ট’ এর রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, হেলেন ডি ১৯৮৮ এবং ১৯৯৪ সালে ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপুপুঞ্জে নিবন্ধিত দুটি কোম্পানি ‘জেসন হোল্ডিং লিমিটেড’ এবং ‘নিনা লিমিটেড’র মালিক।

২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভ চুরির তদন্তে দেখা যায় যে, হেলেন ডি এই দুই কোম্পানির দায়িত্বে থাকা এজেন্টকে ‘ট্রাইডেন্ট ট্রাস্ট’ থেকে ‘এমএমজি ট্রাস্টে’ পরিবর্তন করেছেন। তবে কোম্পানিগুলো কি কাজে ব্যবহৃত করা হয়; তার কোনো বিবরণ নেই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে ফিলিপাইন সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (পিসিআইজে) এবং র‌্যাপলার গত ১৬ সেপ্টেম্বর হেলেন ডিকে ইমেইল করে কিছু তথ্য এবং উত্তর জানতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা রিপোর্টটি প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি।

সিএনএনের ম্যানিলা ও জাকার্তার সাবেক ব্যুরো প্রধান মারিয়া রেসা মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে ‘সাহসী লড়াই’য়ে অবদান রাখায় রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতফের সঙ্গে যৌথভাবে এবছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ২০১২ সালে মারিয়া প্রতিষ্ঠা করেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘র‌্যাপলার’। ক্ষমতাসীনদের নানা হুমকির মধ্যেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।

বিশ্লেষণধর্মী ও কৌশলী অনুসন্ধানের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে এবং তার সরকারের নানান সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খোলাখুলি সমালোচনা করেন মারিয়া। এ কারণে তিনি একাধিকবার দুতার্তে সরকারের নির্যাতনের মুখেও পড়েছেন।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি যায়। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই অর্থ ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের একটি শাখায় চারটি ভুয়া হিসাবে জমা হয়। সেখান থেকে তা দ্রুত তুলে নেওয়া হয়।