চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দেখলেন, বাংলাদেশকে দেখালেন

বিপিএলে ড্রোন অভিজ্ঞতা

আকাশ থেকে দেখতে ক্রিকেট ভেন্যুটি কেমন? সেটি টেলিভিশন দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে এসে বাংলাদেশের মানুষের প্রেমে মজেছেন কানাডিয়ান নাগরিক ক্রিস ফিকরেট। সদা হাস্যোজ্জ্বল পঞ্চাশোর্ধ্ব এ ভদ্রলোক বিপিএলে ড্রোন উড়িয়ে বেরিয়েছেন তিনটি ভেন্যুতে। সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা স্মৃতির মণিকোঠায় সযত্নে রেখে শনিবার ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশে।

বিপিএল ফাইনালের আগে ‘ছোট্ট’ বিমানের এই পাইলট বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন চ্যানেল আই অনলাইনকে। দেখালেন কীভাবে ড্রোন চালান আকাশে।

বিজ্ঞাপন

বাস্কেটবল প্রিয় খেলা হলেও বিপিএলে এক মাসেরও বেশি সময় কাজ করে ক্রিকেটের প্রতি একটা টান অনুভব করছেন ক্রিস, সঙ্গে ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশের মানুষের জন্যও আলাদা একটা জায়গা তৈরি হয়েছে তার।

‘এখানে এসে অনেকবেশি বন্ধু হয়েছে আমার। সংখ্যায় সেটা ৩০০ ছাড়িয়ে। মানুষ এসে আমার সঙ্গে কথা বলে, আমি পরিচিত হই। তাদের আমি বন্ধুই বলব। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট তিন ভেন্যুতেই আমার সুন্দর সময় কেটেছে। যেদিন ম্যাচ ছিল না, চলে গেছি ঘুরতে। খুব উপভোগ করেছি। ঢাকার মানুষ খুবই ব্যস্ত, সিলেটের মানুষ অতটা নয়। তাদের খুব শান্ত প্রকৃতির মনে হয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মানুষের মাঝেও খুব ব্যস্ততা দেখেছি। তিন ভেন্যুর মধ্যে উপভোগ করেছি সিলেটে। সেখানকার প্রকৃতি অসাধারণ।’

বিজ্ঞাপন

বিপিএলের শুরু থেকেই স্টেডিয়ামের আকাশে চক্কর দিতে দেখা গেছে ফড়িংয়ের মতো ছোট্ট একটি উড়োযান। দিনে অতটা দৃশ্যমান না হলেও রাতে আপন আলোয় হয়েছে স্পষ্ট। যেটি ঘিরে অনেকেরই কৌতূহল। এটি আসলে ড্রোন। যাতে লাগানো আছে শক্তিশালী ক্যামেরা। বিপিএল সম্প্রচারে এবার নতুন প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার হয়েছে এটি।

স্টেডিয়ামের ছাদে বসে রিমোট আর কম্পিউটারের সাহায্যে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করেন ক্রিস। কখনও উচ্চতা কমান, কখনও আবার বাড়ান। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের গাইডলাইন মেনেই চালকহীন বিমান (ড্রোন) চালনা করতে হয় আকাশে।

ক্রিস এটিকে বড় বিমান চালনার সঙ্গে তুলনা করেন। পাশাপাশি জানালেন, কীভাবে ড্রোন ব্যবহারে খেলা সম্প্রচার হয়ে ওঠে আরও নান্দনিক।

‘বড় একটি বিমান আকাশে ওঠানো, ল্যান্ডিং করার মতোই কাজ এটি। এটি চালাতে আমার একজন পাইলটের প্রশিক্ষণই নিতে হয়েছে। আগে আমি ছোটখাটো স্পোর্টস ইভেন্টে ড্রোন নিয়ে কাজ করেছি। বিপিএলের মতো এত বড় আসরে প্রথম, বাংলাদেশেও এসেছি প্রথম। এখানকার মানুষ ক্রিকেট খুব পছন্দ করে।’

‘সবাই মাঠে ব্যাট-বলের লড়াই দেখতে চায়। তবে একটি ভেন্যু কিংবা একটি শহরকে তুলে ধরতে ড্রোনের বিকল্প নেই। হয়ত হেলিকপ্টার থেকে শ্যুট করা যেতে পারে, কিন্তু সেটি খুবই ব্যয়বহুল। এটির মাধ্যমে পুরোবিশ্ব খেলা দেখার পাশাপাশি শহরটাও দেখছে। সিলেট স্টেডিয়াম বিশাল এক চা বাগানের মাঝে। যদি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা না হত, তাহলে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য টিভির সামনে বসা কেউ দেখতে পেত না। এটাই ড্রোন ব্যবহারের সার্থকতা।’

Bellow Post-Green View