চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ উপকূল থেকে কিছুটা দূরে সরে গেল ইয়াস

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টি ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশ উপকূল থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া ১৬ ও ১৭ নম্বর বিশেষ বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ ১৭ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আজ সকাল ৯টায় (২৬ মে) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৫৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এর আগে ১৬ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছিল, এটি আজ সকাল ৬টায় (২৬ মে) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

সর্বশেষ ১৭ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে আরও বলা হয়, ইয়াস আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ (২৬ মে) দুপুর ১২টা নাগাদ ধামরার উত্তর এবং বালাশ্বরের দক্ষিণ দিক দিয়ে ভারতের উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকট সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলাগুলোয় এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিসহ ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট অধিক উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে বলেও বিশেষ বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০তার পর ভারতীয় উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। এটি আগামী ২-৪ ঘণ্টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বাংলাদেশের দিকে এটি আর আসবে না, তবে পূর্ণিমা ও প্রবল ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় ৩-৪ ফিট উচ্চতায় জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে। তবে ঝড়ের আশঙ্কায় উপকূলবাসী কে সরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই কারণ এটি বাংলাদেশ থেকে দিক পরিবর্তন করে সরে গেছে।

সমুদ্র শান্ত হলে জারি থাকা ৩নম্বর সিগনাল নামিয়ে ফেলবে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিন আজ বিকেল থেকে সমাপ্ত করে দেবে তারা।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশে যে বৃষ্টি ও মেঘ এটি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে। এই আবহাওয়া দুই তিনদিন থাকবে তবে, বায়ু মণ্ডলের জলীয় বাষ্পের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যে অসহনীয় তাপদাহ ছিল সারাদেশ জুড়ে, তা কমবে।
ঢাকায় হালকা বাতাস-বৃষ্টি দিনভর থাকতে পারে

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর প্রভাবে ঢাকায় হালকা বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছে। থেমে থেমে এ হালকা বাতাস-বৃষ্টি দিনভর থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ‘ঢাকা রেঞ্জে বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায়ও হালকা বাতাস-বৃষ্টি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে, তার প্রভাবে মেঘ মাঝে মাঝে আসছে। এ জন্য একটু বাতাস হচ্ছে ঢাকায়। ঢাকায় এই হালকা বাতাস-বৃষ্টি আজ দিনভর থাকতে পারে। মাঝে মাঝে ভাঙা ভাঙা মেঘ যখন আসছে, তখন হালকা বাতাস-বৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে ঢাকায় আজকের দিনে বাতাস-বৃষ্টি হতে পারে।’

বিজ্ঞাপন