চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্মের ক্লাসে একদিন পাঠ্য হবে আলফা’

‘তোমাদের তারকোভস্কি আছে, আমাদের আছে নাসির উদ্দিন ইউসুফ’

গেল ২৬ এপ্রিল মুক্তি পেল ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনা ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর পরিচালনায় বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘আলফা’। ‘একাত্তরের যীশু’ ও ‘গেরিলা’র পর এটি নির্মাতার তৃতীয় ছবি। এরইমধ্যে ছবিটি নিয়ে কথা বলছেন চলচ্চিত্র আলোচক, নবীন-প্রবীন নির্মাতা, কবি-সাহিত্যিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। বেশির ভাগই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ‘আলফা’র।

রাজধানীতে তিনটি প্রেক্ষাগৃহ ও চট্টগ্রামে একটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘আলফা’। সম্প্রতি ছবিটি দেখার পর আলফা নিয়ে সোশাল মিডিয়াতে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন নাট্য নির্দেশক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলী হায়দার। আলফা নিয়ে তার অনুভূতি হুবুহু দেয়া হলো চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য:

 

বিজ্ঞাপন

নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু শুধু মঞ্চের সুবর্ণপুত্র নন, বাংলা সিনেমারও। তাঁর তৃতীয় ছবি ‘আলফা’ জাদুবাস্তবতা, এক্সপ্রেসিনিসম ও সুরিয়েলে ঠাঁসা এবং খাসা। অনেকদিন অনেকে মঞ্চে জাদুবাস্তবতা নিয়ে কাজ করছেন, কোনটিকেই মনে ধরেনি। শেষে মনে ধরল মঞ্চেরই মানুষ বাচ্চু ভাইয়ের ‘আলফা’ সিনেমা দিয়ে। ‘আলফা’ নির্মাণের মধ্যে দিয়ে আমরা খুঁজে পাই অন্য এক উঁচু স্তরের সিনেমা নির্মাতাকে, যে ছবি আমি নিশ্চিত পঠিত হবে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্টাডিজের ক্লাসে। আমাদের আর শুধু তারকোভস্কি- বার্গম্যান-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না সিনেমা পড়ানোর ক্লাসে। একেবারে ভিন্ন এক গল্প আমরা দেখলাম, ভিন্ন বাস্তবতা, যা আমাদের আশেপাশেই ঘটছে প্রতিদিন।

বস্তির দৃশ্য, বস্তির পাশে ডোবার মাঝের ঘরের যে মোহময় ঘোর এই সিনেমায় দেখলাম, বার বার মনে হচ্ছিল আহা আমার একটি এই রকম ঘর যদি থাকত! সিনেমাটির শুরুতেই চমকে গিয়েছিলাম তাজিয়া মিছিলের কয়েকটি কোলাজ শটে। এই ছবির প্রত্যেকটা শট নিয়ে গবেষণা হতে পারে। কারণ, প্রত্যেকটি শট অনেক অনেক নতুন অন্যরকম বার্তা দেয়। ফলি সাউন্ড ও আবহ শ্রেষ্ঠতম। পোশাক একদম ঠিকঠাক। প্রত্যেকের অভিনয়ে মগ্নতা ও পরিমিতি ছিল যা দর্শককে তাঁদের চরিত্রের ভেতর ঢুকে যেতে বাধ্য করে। সিনেমাটি দেখে এক মহাঘোর কাজ করছে, এই ঘোর থাকবে অনেকদিন।

এ টি এম শামসুজ্জামান ও ইশরাত নিশাত আমাদের সিনেমার দুজন আন্তর্জাতিক মানের অভিনেতা। কী অসাধারণ চরিত্র নির্মাণ! বাহ! দুজনকে প্রাণ ভরে ভালবাসা। তৃতীয় লিঙ্গের কোন চরিত্র আমাদের দেশের কোন সিনেমায় আমি এতোটা ব্যক্তিত্ব নিয়ে নির্মাণ করতে দেখিনি। এই ছবিতে কতো আপন করে নির্দেশক নির্মাণ করেছেন যা দেখার মতো। ‘কালী হিজরা’ চরিত্রের মাতৃত্বের আকুতি দর্শক মন কাদিয়ে দেয়।

নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু আমাদের মঞ্চের প্রধানতম নাট্য নির্দেশক। অনেক অনেক দুর্দান্ত নাটক আমরা তার নির্দেশনায় দেখেছি। এবার প্রতিবছর তার কাছে একটি করে ছবি চাই। তাহলে আমরা বাংলাদেশের সিনেমার আন্তর্জাতিক নির্মাণ আরও কয়েকটি পাব, যা দিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব, যে তোমাদের তারকোভস্কি আছে, আমাদের আছে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। আপনাকে দশবার স্যালুট বাচ্চু ভাই।

যারা ভাল সিনেমার দর্শক। আর দেরি না করে দেখে ফেলুন, দারুণ ভাল ছবি এই দেশে এক সপ্তাহের বেশী চলে না।

Bellow Post-Green View