চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সক্ষমতায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তব

সকল জল্পনা-কল্পনা আর নিরাশার অবসান ঘটিয়ে আগামী বছরের ৩০ জুন বা এর আশপাশের সময়ে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করছে সরকার। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর কাজের ৮৭ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে।

কানাডার পরামর্শক কোম্পানির দেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেবার পরিকল্পনার অভিযোগে শুরুতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক, এরপর থেকেই এই সেতু দেশের বহু স্থাপনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র থাকার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের কোন প্রমাণ পাননি কানাডার আদালত। এরপরে ধীরে ধীরে সক্ষমতার পরিচয় দিতে থাকে বাংলাদেশ। প্রায় পুরোটা নিজেদের অর্থায়নে সেতুর কর্মকাণ্ড এগিয়ে যেতে থাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে।

সেতুর প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সর্বমোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যার মধ্যে গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৬ হাজার ২৪৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর আগে মূল সেতুর ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (এমবিইসি) সঙ্গে চুক্তি অনুসারে প্রথমে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সেতুটি চালুর সময়সীমা ঠিক করা হয়েছিল। এরপর ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের ডিসেম্বরে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ব্যয় ধরা আছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে পদ্মা সেতুর প্রকল্প নেওয়া হয়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০১৫ সালে। এরপর তিনবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পদ্মা বহুমুখী সেতু চালু হলে শিল্পায়ন ও বানিজ্যিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় তিনকোটি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসবে। বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ বা কমপক্ষে তিনকোটি মানুষ সরাসরি এই সেতুর মাধ্যমে উপকৃত হবে।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর পুরোটা দৃশ্যমান হয়। এর ফলে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরাকে যুক্ত করেছে পদ্মা সেতু। আর সেতুর দুই পাশের নানা ধরণের সংযোগ সড়কের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। সবমিলিয়ে একটি ইতিবাচক ধারায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তব।

দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ও দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগকে পেছনে ফেলে ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর যে স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছিল পদ্মার পাড়ে, সেই স্বপ্ন এখন একেবারে তীরে ভেড়ার অপেক্ষায়। অচিরেই সারাবিশ্ব দেখবে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু আর স্বপ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের সক্ষমতায় এটি বাস্তব।

বিজ্ঞাপন