চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে অপার সম্ভাবনা : এফএও

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের আম রপ্তানি কৃষিপণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা- এফএও। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি বলেছেন, বিশ্ববাজারে আনারস, কাঁঠাল, কলাসহ মৌসুমী ফল ও সবজিও রপ্তানি হতে পারে নিয়মিতভাবে। কৃষিপণ্যে বিষ মেশানো নিয়ে বাংলাদেশে কোনো কোনো সময় নেতিবাচক এবং অতিরঞ্জিত প্রচার হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মে মাসেই বিশ্বের সব চেয়ে বড় খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের আম গেছে যুক্তরাজ্যের বাজারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও’র সহায়তায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর- ডিএই এবং হর্টেক্স ফাউন্ডেশন বেসরকারি খাতের মাধ্যমে রপ্তানির কাজটি করেছে। বাংলাদেশের কৃষিপণ্য দেশের বাইরে রপ্তানি নতুন না হলেও খাদ্য নিরাপত্তা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করে সুপার মার্কেটে রপ্তানি নিঃসন্দেহে বড় ঘটনা।

এফএও’এর আবাসিক প্রতিনিধি মাইক রবসন বলেন, ওয়ালমার্ট বাংলাদেশ থেকে আম নিচ্ছে। এটা ভাবার কারন নেই যে তারা বাংলাদেশকে দয়া করছে। এখানে ব্যবসাটাই মুখ্য।

একে বিশাল সুযোগ বলেই অভিহিত করে মাইক রবসন বলেন, বিশ্ববাসী জানছে বাংলাদেশের আম খাদ্য নিরাপত্তা মানে উত্তির্ণ হয়েই এখানে এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্য ফল, ফসল রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব বহুগুনে।

একজন ভোক্তা হিসেবে ফল, ফসলে বিষ ‍নিয়ে নিজেও উদ্বিগ্ন থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে অনেক সময় এখানে বাড়াবাড়ি উদ্বেগ দেখি মানুষের মাঝে। পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খুব সহজে সাধারন নিয়মকানুন মেনেই অনেক ক্ষেত্রেই ঝুকি এড়ানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

খাদ্যে বিষ নিয়ে দেশের মধ্যে যেখানে এতো উদ্বেগ, সেখানে বাংলাদেশের ফল-ফসল বিশ্ববাজারের ক্রেতারা কেন আস্থায় নেবে? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহাখালীতে ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির কারিগরি দক্ষতা এবং গুণগত মানে উত্তর মিলেছে সেই প্রশ্নের।

এফএও’এর পরামর্শক ডক্টর শ্রীধর ধরমপুরী বলেন, অবশ্যই এটা অনেক গর্বের ব্যপার যে বাংলাদেশের আম এখন ইউকে’তে যাচ্ছে। ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে গুনগত মান নিশ্চিত করা হয়। ওদের একটা প্রসেস আছে। সেম্পল রিসিভ করে, টেস্টিং ফিস নিয়ে এনালাইসিস করে।

এফএও’র সহযোগিতায় আমের সাথে সাথে আলু, টমেটো, বেগুন এবং আলু রপ্তানি নিয়ে কাজ শুরু করেছে হর্টেক্স ফাউন্ডেশন। ২৫ জেলায় কৃষকদের উত্তম কৃষি পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।

হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডক্টর সালেহ আহমেদ বলেন, একই পরিমান ফল বা সবজি রপ্তানি সুপার মার্কেটে দিতে পারলে বর্তমানের তুলনায় দেড় থেকে দুইগুন মুল্য আমরা পেতে পারি।

হর্টেক্স ফাউনেডশনের তথ্য অনুযায়ী এ মুহূর্তে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে।

বিজ্ঞাপন