চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশের অধিকাংশ পোশাক কারখানা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ

তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্ত দেয়া হলেও তা মানেনি অনেক কারখানার মালিক। ফলে রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছর পরও অধিকাংশ কারখানা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। আর এ কারণে এক ধরনের অস্বস্তিতে রয়েছে বিদেশি ক্রেতারা।

সম্প্রতি কানাডা ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইলের’ এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধস এ যাবত কালের সবচেয়ে বড় শিল্প বিপর্যয়। ৮ তলা বিশিষ্ট ওই ভবন ধসে পড়ে এক হাজার একশ পোশাক শ্রমিক নিহত হয়। আহত হয় আরো আড়াই হাজার শ্রমিক। যাদের মধ্যে মারাত্মকভাবে আহত হয় অনেকে। বিশ্ববাসী বাংলাদেশের ওই দুর্ঘটনার জন্য বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সম্প্রতি ওই শিল্প বিপর্যয় আবার সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। কারণ ওই দুর্ঘটনার পাঁচ বছর পরও কারখানাগুলোর মালিক ও সরকার শ্রমিকদের নিরাত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

রানা প্লাজার ওই দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সিদ্ধান্ত নিলেন, কারখানাগুলো যদি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করে তাহলে তারা বাংলাদেশ থেকে কোনো পোশাক কিনবে না। এরপর শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুইটি চুক্তিতে করেছিল তারা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে বিল্ডিং অ্যান্ড ফায়ার সেফটির সাথে এ দুইটি চুক্তি করে।

ইউরোপ ও আমেরিকার দুই শতাধিক পোশাক আমদানিকারক কোম্পানির সমন্বয়ে করা ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, যেসব কারখানা বিদেশে পোশাক সরবরাহ করে থাকে সেগুলোর কর্মপরিবেশ, ভবন কাঠামো ও অগ্নি নিরাপত্তাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্বেও চুক্তি দুইটির অনেক কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ রপ্তানিকারক কারখানায় শ্রমিকদের কাজ করার পরিবেশ এখনো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে কারখানা মালিক ও সরকার শ্রমিক সংগঠনের নেতা কর্মীদের আটক ও তাদের হয়রানি করছে।

চুক্তিতে সই করা ইউরোপ ও আমেরিকার ওই দুইশ কোম্পানি বলেছিল, যে কারখানাগুলো এই নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় আসবে না তারা এসব কোম্পানির কাছে তাদের পোশাক বিক্রি করতে পারবেনা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিল্ডিংয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানায় এখনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। তাই ক্রেতারা এখনো অস্বস্তিতে রয়েছে।

এ কারণে অ্যাকর্ডে স্বাক্ষরকারীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, কারখানাগুলোর পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি। তাই পরিদর্শনের জন্য আরো তিন বছর সময় দরকার।

গত বছর পোশাক শ্রমিকদের উপর নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল উল্লেখ করে কানাডার সংবাদ মাধ্যম দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইলের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত বছর কয়েক ডজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শ্রমিকদের যে স্বাধীনতা রয়েছে সে বিষয়ে কারখানাগুলোর ধারণা থাকতে হবে। আর শ্রমিকদের এই অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে অ্যাকর্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে ক্রেতাদের অন্য জোট অ্যালায়েন্স বলেছে যে, কারখানা পরিদর্শন ও প্রতিকার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে তাদের আর কোন পরিকল্পনা নেই।

বিজ্ঞাপন