চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাঁশখালী সংঘর্ষ: ক্ষতিপূরণের আদেশ, বিচার বিভাগীয় তদন্তে রুল

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের’ সংঘর্ষের সর্বশেষ ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে আপাতত ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তবে এরই মধ্যে যদি ৩ লাখ টাকা করে দেয়া হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আরো ২ লাখ টাকা করে দিতে এস আলম গ্রুপের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া নির্মানাধীন ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কেন বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হবে না, সে বিষয়ে এবং রিটে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণ বিষয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আর সংঘর্ষের ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের করা তদন্ত প্রতিবেদন ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে আহতদের চিকিৎসা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়ে হাইকোর্টকে জানাতে বলা হয়েছে।

বাঁশখালীতে সংঘর্ষের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বেলাসহ ৬টি সংগঠনের করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বেলার প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান এবং আইন ও সালিশ কেন্দের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন। এস আলম গ্রুপের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আরশাদুল রউফ। আর রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

এর আগে বাঁশখালীতে সংঘর্ষের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং হতাহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক রিট করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি, সেফটি অ্যান্ড রাইটস এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)। সে রিটের শুনানি নিয়েই আজ হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দিলেন।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারায় এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের বিক্ষোভে গত ১৭ এপ্রিল পুলিশ গুলি চালালে পাঁচ শ্রমিক নিহত এবং কয়েক ডজন শ্রমিক আহত হন। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো ২ শ্রমিকের বুধবার মৃত্যু হয়।

হতাহতের ঘটনায় এসএম পাওয়ার প্লান্টের পক্ষে একটি ও পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলাটি করেছে। ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে করা মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১০৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর পুলিশের করা মামলায় অজ্ঞাত দুই থেকে আড়াই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকাদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। আর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিষয়ে মতবিনিময়সভা চলাকালে সংঘর্ষে একজন নিহত হন।

বিজ্ঞাপন