চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাঁচতে হলে মানতেই হবে

দেশে অতি দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা করোনাভাইরাসের লাগাম টেনে ধরতে আপাতত এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। লকডাউনের এই সময়ে মানুষ যাতে ভাইরাসটিতে কম আক্রান্ত হয়; সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ কঠোর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

রোববার প্রকাশিত সেই প্রজ্ঞাপনে মানুষকে ঘরে রাখতে এসব কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই ১২ ঘণ্টা অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে কোনোভাবেই ঘরের বাইরে আসতে মানা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শপিং মল ও অন্যান্য দোকান বন্ধের পাশাপাশি সীমিত করা হয়েছে কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহের সময়। বলা হয়েছে- সোমবার থেকে উন্মুক্ত স্থানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। তবে এর বাইরে কোনোভাবেই কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দোকান খোলা রাখা যাবে না।

এমন আরও কিছু নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আগের বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি; শুধু কড়া নির্দেশনা দিলেই হবে না। সেসব নির্দেশনা মানুষকে মানতে বাধ্য করাতে হবে। না হলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। মাঝখান থেকে কিছু মানুষের কারণে কষ্ট পাবে দেশের বেশিরভাগ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

যদিও এবার সরকার বলছে; এ আদেশ যারা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ জন্য সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ওইসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে।

এটা ঠিক, বহু মানুষের জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা কঠিন। বিশেষ করে যারা দিন এনে দিন খান। কাজের জন্য বাইরে না এলে যাদের ঘরে চুলা জ্বলে না। সেইসব মানুষের কাছে এই লকডাউন নিদারুণ কষ্টের। তবুও আমরা আসলে উপায় হীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও আজ সংসদে দাঁড়িয়ে সেই কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘মানুষের সমস্যা হবে। তারপরও জীবনটা আগে। জীবন বাঁচানো সবার করণীয়।

গত ২৯ মার্চ থেকে আজ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৭ দিনে দেশে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৬৫০ জন। গড়ে প্রতিদিন আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯৫০ জন মানুষ। আর এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৬২ জনের। গড়ে দিনে প্রায় ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই দেশে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা আঁচ করা যায়।

এমন পরিস্থিতি আমাদের বাঁচার একটাই উপায়; সঠিক উপায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সরকার যেসব নির্দেশনা দিয়েছে- তা কঠোরভাবে মেনে চলা। না হলে সামনে আরও ভয়াবহতম পরিস্থিতি দেখতে হবে আমাদের।