চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বস্ত্রহরণের রাজনীতি আর কতোদিন!

কিছু বড় বড় রাজনীতিককে মাঝে মাঝে বিরাট বড় ভাঁড় মনে হয়। এক দল আরেক দলকে কটাক্ষ করে রসালো বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রায়ই মাত্রাজ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কেউ কেউ। তিনি যে একজন নারী সম্পর্কে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে ফেলছেন সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই! নেই শ্লীলতা-অশ্লীলতার বাছবিচার!

অতীতে এরকম উদাহরণ অনেক।

সাম্প্রতিক এক সম্মেলনে দেখা গেছে, একজন রাজনীতিবিদ বিরোধী সিনিয়র নেত্রীর পরিধেয় বস্ত্রকে রাজনৈতিক আলোচনার/সমালোচনার বিষয়বস্তু বানিয়েছেন। আবার তার দলেরই সিনিয়র একজন ‘সেটা করা উচিত নয়’ বলে বক্তৃতা দেন, কিন্তু সেটাও বেশ রসিয়ে রসিয়ে।

দেখে মনে হয় যেনো বস্ত্র হরণের প্রতিযোগিতা চলছে! এ ধরনের কুরূচিপূর্ণ আক্রমণ বা প্রতিআক্রমণ দেশের ও আমাদের জন্য কী মঙ্গল বয়ে আনবে তা বোধগম্য হয়না।

এমন তথাকথিত রসবোধসম্পন্ন সিনিয়র নেতাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য নিজ দলীয় লোকজনদের শ্রবণেন্দ্রিয়কে সন্তুষ্ট করলেও আমাদের মতো মাথামোটাদের খুব একটা প্রীততো করেই না, বরং শালীনতার সূক্ষ্ম অনুভূতিতে যেন আঘাত করে।

আমাদের মতো সাধরণ মানুষ যারা নিত্যকার মৌলিক প্রয়োজনগুলো মেটাতেই সংগ্রাম করে চলেছি তাদের কাছে এমন রসিকতাগুলো অশ্লীল লাগে, বিরক্তিও উৎপাদন করে।

কিন্তু, এসব কি কখনো তারা বুঝবেন?

নাকি রস-বোধহীন আমজনতার অনুভূতি নিয়ে ভাবার বা পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজনও নেই!

রাজনীতিতে একে অন্যের সমালোচনা করার কত কিছুইতো আছে। এই যে জাতির অহংকার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতো বিতর্ক করার চেষ্টা হচ্ছে, কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে; সেটার কড়া সমালোচনা করুন, হোক তীব্র প্রতিবাদ। কিন্তু, পরিধেয় বস্ত্র নিয়ে কেনো?

আমাদের দেশটা কারো দয়া বা দাক্ষিণ্যে পাওয়া নয়। অনেক ত্যাগ, অনেক রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের এই পতাকা। সেটা নিয়ে কোন রকমের অবহেলা, বিদ্রুপ বা প্রশ্নচিহ্ন আমরা মানবোতো নাই, শুনতেও চাই না।

Advertisement

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় গর্বের বিষয়, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের অহংকার। যে দেশটার জন্য আমাদের সোনার মানুষেরা জীবন বিলিয়ে দিলেন,  যে রত্নগুলো হারিয়ে গেল তাদেরকে যে অর্বাচীনেরা এই দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে সংখ্যায় হিসাব করতে চায়  তাদেরকে দেশ ছাড়া করুন। পুরো জাতিকে আপনার সাথেই পাবেন। কিন্তু, আবারও বলি, বস্ত্রহরণ কেনো?

বিকৃত রসালো আলোচনা না করে এমন উদাহরণ তৈরি করুন যাতে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক একটিও অসম্মনজনক শব্দ উচ্চারণ করে আমাদের অহমবোধে আঘাত করার সাহস কেউ না পায়।

আপনারা জনতার জন্য, দেশের জন্য নাকি রাজনীতি করেন! আমরাও অনেক আশা ভরসা নিয়ে আপনাদের দিকে তাকিয়ে থাকি , ভোট দিয়ে আমাদের প্রতিনিধি বানাই। আমাদের সুখ, দুঃখ, মান-অপমান নিয়েও আপনারা একটু ভাবুন– এটাই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে। হীন মানসিকতার পরিচয় না দিয়ে দেশের ছোট-বড় প্রয়োজনীয় ইস্যুতে মুখ খুলুন।

কত সমস্যা আছে আমাদের।

সমস্যায় জর্জরিত আমরা বলতে গেলে ।

ট্রাফিক জ্যামে ঢাকা মহানগরে প্রায়ই অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে। কতো কর্মসময় আমরা নষ্ট করতে বাধ্য হচ্ছি এই কারণে। আরো ১০ বছর পর ঢাকার পরিস্থিতি কি হবে ভাবতেও ভয় লাগে।

কি করে, কবে এ থেকে পরিত্রাণ পাবো, সেটা নিয়ে কথা বলুন।

আর দুর্নীতিতো এক মহামারি ব্যাধি! সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পরেছে। এতোকিছুর মধ্যেও যে আমরা বেঁচে আছি তা থেকেই বোঝা যায় যে আমরা কতটা সংগ্রামী ও সহনশীল জাতি।

রাজনৈতিক নেতাদের মুখে নিজেদের গুণকীর্তন ও পরচর্চা ছাড়া বক্তব্য শুনেছি কিনা মনে করতে পারছি না। ‘আমরাই সব করেছি বা করবো, অন্যরা কিছুই করেনি বা করবে না’– এসব টিপিক্যাল বক্তব্য শোনার আগ্রহই হয় না আর। নিজের ঢোল নিজেরাই না পিটিয়ে আমাদেরকেও একটু পিটাতে দিন! ভাল কাজের প্রশংসা আর খারাপের নিন্দা করার সুযোগ আমাদেরকেও দিন।

যে যেমন করবেন তেমনই পাবেন। জনগণ কিছুই বোঝে না তেমন ভাবা ঠিক না। সাদা-কালো চেনার চোখ আমাদেরও আছে।
একে অপরকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করা, ব্যক্তিগত অশ্লীল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ বন্ধ করুন। এরকম নোংরা রাজনীতি আর কতো?

নিদেনপক্ষে সিনিয়র রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আর একটু রাজনৈতিক শিষ্টাচারের আশাতো আমরা করতেই পারি।