চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বস্তির মানুষেরাই তো আমাদের জন্য শহর গড়ে’

‘ইব আল্লায় উ!’-নিজের প্রথম সিনেমা দিয়ে আলোচনায় দিল্লির তরুণ নির্মাতা প্রতীক ভাটস…

দিল্লির নির্মাতা প্রতীক ভাটের প্রথম সিনেমা ‘ইব আল্লায় উ!’ ছবিটি গ্লোবাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ‘উই আর ওয়ান’-এ শনিবার প্রেজেন্ট করেছেন নির্মাতা অনুরাগ ক্যাশ্যপ। সেখানে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেয়া হয়েছে দিল্লির বানরদের। কারণ এই ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছে বানরগুলো!

‘ইব আল্লায় উ!’ সিনেমাটি সোশাল স্যাটায়ার। চুক্তিভিত্তিক চাকরি, কর্মজীবীদের সংগ্রাম এর চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিতে। দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ডকুমেন্টারির মতো করে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে ছবির। এক তরুণের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমার কাহিনী, যে সম্প্রতি বানর রিপিলিং স্কোয়াড (বানর তাড়ানো) এ চাকরি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্মাতা জানান, ছবির জন্য পারফেক্ট শট পেতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। বানর আসার অপেক্ষা, নির্মাতা যেমনটা চান, বানরের সেরকম প্রতিক্রিয়া দেখানো, সব মিলিয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়েছে।

তরুণ নির্মাতা প্রতীক ভাটস

প্রতীক বলেন, ‘বিষয়টা মাছ ধরার মতো। সফলতা না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এমন দিনও এসেছে যে আশেপাশে এত বানর ছিল যে আমরা শুটিং করতে পারিনি। সিনেমায় বানর রাখতে চেয়েছি, তাদেরকে আমার সিনেমার চরিত্র হিসেবে চেয়েছি’।

ছবির প্রযোজক সেতাব সিং জানান, তারা যখন নিউ দিল্লি মিউনিসিপাল কাউন্সিলের কাছে সিনেমার জন্য অনুমতি চাইতে গিয়েছেন, তারা একজন পশুর ডাক্তারকে নিযুক্ত করেছেন তাদের জন্য। সেই ডাক্তার শুটিং এর পুরো সময়টাতে ছিলেন।

তিনি আরও জানান, প্রথমে বানরগুলোকে ভয় দেখানোর জন্য লাঙ্গুর (লম্বা লেজ) আনা হয়েছিল। কিন্তু পরে অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড এই ব্যাপারে আপত্তি জানায়। তাই পরে মহেন্দর নামের এক ব্যক্তিকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি পেশা হিসেবে দিল্লির বিভিন্ন স্থানের বানর তাড়ান। সিনেমাতেও একই চরিত্র তার। তাদের ভয় দেখানোর জন্য ‘ইব’, ‘আল্লায়’, ‘উ’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়। মহেন্দর যেহেতু বানরদের আসার সময় এবং অভ্যাসের ব্যাপারে অভিজ্ঞ, তাই তিনি অনেক সাহায্য করতে পেরেছেন শুটিং এর সময়।

প্রতীক বলেন, ‘আমরা আসল লোকেশনগুলোতে শুট করেছি। একজন অথবা সর্বোচ্চ পনেরজন মিলে শুটিং করা হয়েছে। কাউকে বিরক্ত করা হয়নি শুটিং করার সময়। এনডিএমসি হাসপাতালের ভেতরেও করা হয়েছে শুটিং। সরকারি ভবনের বাইরেও করা হয়েছে। তবে শুটিং করার সময় কাউকে বিরক্ত করার পক্ষে না আমি। নির্মাণ ভবনের কর্মী এবং চায়ের দোকানিদের বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম।’

ছবির পোস্টার…

প্রতীক জানান, যারা আমাদের কাছে অদৃশ্য, তাদের নিয়েই এই সিনেমার গল্প। সেটা যে কোনো পেশার মানুষই হতে পারে। যেসব মানুষ আমাদের শহর গড়ে, বাড়ি বানায়, এই পেছনের মানুষগুলো আমাদের কাছে অদৃশ্য। পরিযায়ী শ্রমিকদের কত অবহেলা করা হয়। এর আগেও ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমের সময় শহর থেমে বস্তি উধাও করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বস্তির মানুষেরাই তো আমাদের জন্য শহর গড়ে।

ছবির শুটিং করা হয়েছে ২০১৮ সালে। ৪৫-৬০ দিন লেগেছিল শুটিং শেষ হতে। প্রযোজক জানান, ওটিটি প্লাটফর্মে সিনেমা ছাড়ার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। তবে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি।

ইউটিউবের অনলাইন ফিল্ম ফেস্টে সিনেমাটি ১ লক্ষ ৪৫ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। -টাইমস অব ইন্ডিয়া