চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বসে না থেকে নিয়মিত নাটকে ১০ সিনেমার নায়িকা

‘নায়িকা হয়ে যদি নাম কামিয়ে বেকার বসে থাকি, তাহলে সেই আবেদন দু-একবছরের বেশি থাকবে না’

করোনার কারণে ঢাকাই সিনেমায় মন্দা বিরাজ করছে। নেই শুটিং, বন্ধ সিনেমা হল। অনেকের মতো অভিনয় বেকারত্বের শিকার হয়েছেন অন্তত দশটি সিনেমার নায়িকা মৌমিতা মৌ। বসে না থেকে এবার সিদ্ধান্ত নিলেন ছোটপর্দায় কাজ করবেন! ইতোমধ্যে নাটকে নিয়মিত কাজ ও শুরু করেছেন এই অভিনেত্রী! 

গত কয়েক মাস ধরেই নাটকে কাজ করছেন মৌ। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে তিনি বলেন, অন্য পেশায় যেতে পারবো না। অভিনয় ছাড়া অন্য কাজ ভালো লাগে না। ভেবে দেখলাম একেবারে বসে না থেকে কাজের মধ্যে থাকা ভালো। হোক নাটক, এটা তো অভিনয়েরই জায়গা। শুরুতে টুকটাক কাজ শুরু করলেও এখন পুরোপুরি নিয়মিত হয়েছি। তবে ভাবিনি নাটকে ব্যস্ততা বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলনের সঙ্গে একটি নাটকের দৃশ্যে মৌমিতা মৌ

বিজ্ঞাপন

গেল ঈদের জন্য পাঁচটি নাটকে কাজ করেছেন মৌমিতা মৌ। একাধিক সিরিয়ালেও কাজ করছেন। নাটকে তার সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন মীর সাব্বির, আনিসুর রহমান মিলন, আরফান আহমেদ, মারজুক রাসেলদের মতো অভিনেতাদের। তিনি বললেন, সিরিয়াল দিয়েই নাটকে কাজ শুরু করেছিলাম। এরপর সিঙ্গেল নাটকে কাজ করি। অল্প সময়ে এমন রেসপন্স পাবো ভাবিনি। মাসের বেশিরভাগ দিনই আমার শুটিং ব্যস্ততা থাকছে। আমি খুব এনজয় করছি। অভিনয়ের চর্চাটাও ঠিকমতো হচ্ছে।

সিনেমার নায়িকাদের নাটকে কাজ করলে আবেদন কমে যায় কিনা জানতে চাইলে মৌমিতা মৌ বলেন, আবেদনটা আসে কাজ দিয়েই। কাজ না থাকলে আবেদন দিয়ে কী আসে যায়! নায়িকা হয়ে যদি নাম কামিয়ে বেকার বসে থাকি, তাহলে সেই আবেদন দু-একবছরের বেশি থাকবে না। তাই অভিনয় ও কাজের মধ্যে থেকে নিয়মিত স্ক্রিনে থাকাই আসল বলে মনে করি।

আবেদন একজিনিস আর শিল্পীসত্তাটা আরেক জিনিস উল্লেখ মৌ আরও বলেন, শিল্পীসত্তা বোধ থেকে বসে না থেকে নাটকে কাজ করছি। একজন মানুষের জনপ্রিয়তা কোন মাধ্যম থেকে আসে বলা মুশকিল। হতে পারে, আমি নিয়মিত নাটকে ভালো ভালো কাজ করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলাম। তবে হ্যাঁ, সবার সবখানে ভাগ্য অনুকূলে থাকে না। নাটক করেই নুসরাত ইমরোজ তিশা আপু, মেহজাবীন, তানজিন তিশার মতো অনেকেই আজ সিনেমার অনেক নায়িকার চেয়ে জনপ্রিয়। তাদের সবাই চেনে।

সিনেমা হচ্ছে গ্ল্যামার জগৎ। অভিনয়ের চেয়ে এ মাধ্যমে গ্ল্যামারকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় বলে মনে করেন মৌমিতা মৌ। তার নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে, নাটকে গ্ল্যামারের চেয়ে অভিনয়টাকেই সবচেয়ে প্রাধান্য দেয়া হয়। চেহারায় কিছুই আসে যায় না। অভিনয় জানা বাধ্যতামূলক। সিনেমার নায়িকা হয়ে অভিনয় এবং নাটকে অভিনয় নিয়ে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে মৌমিতার।

তিনি বলেন, সিনেমায় অভিনয়ে দুর্বল হলেও ডাবিং, প্রম্প, গান সবকিছু মিলিয়ে ম্যানেজ করা যায়। কিন্তু নাটকে যতই সুন্দর হোক না কেন অভিনয় জানতেই হবে। সিনেমার ডাবিংয়ে সংলাপ ঠিক করা হলেও নাটকে সরাসরি চিত্রনাট্য পড়ে সংলাপ দিতে হয়। এ জিনিসটা শুরুতে একটু অসুবিধা থাকলেও এ সব ঠিক হয়ে গেছে।

মৌমিতা বলেন, সিনেমার মানুষ অনেক বেশি আন্তরিক। একটা সিনেমা শেষ করতে প্রায় দুই মাস লেগে যায়। এর ফলে নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতা তৈরি হয়। কিন্তু নাটক তো দু-একদিনের ডেট নিয়ে শুটিং করা হয়। তাই এখানকার মানুষরা বেশি পেশাদার। তিনি বলেন, সিনেমায় কাজ করাটা আমার পরিবার কোনোভাবেই সাপোর্ট দিত না। কিন্তু এখন বন্ধু, পরিবার, আত্মীয় স্বজনরা নাটকে কাজ করায় সবাই সাপোর্ট করছে। তবে সুযোগ এলে অবশ্যই আবার সিনেমায় কাজ করবো।

সিনেমার নায়িকা হয়েই ২০১৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মৌমিতা মৌ। তোমারই আছি তোমারই থাকবো, তুই শুধু আমার, মাস্তানি, মাটির পরী, অন্ধকার জগৎ-এর মতো মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। মুক্তির অপেক্ষায় তার অভিনীত রাগী, দরদ, রক্তাত্ব সুলতানা সিনেমাগুলো। তবে মৌ সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন মালেক আফসারীর ‘অন্তর জ্বালা’ সিনেমার জন্য।