চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বর্ষবরণ উপলক্ষে চারুকলায় চলছে প্রস্তুতির ঘনঘটা

আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনার একউচ্ছ্বল উদযাপন হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছরই ওই দিনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘এসোহে বৈশাখ এসো এসো’র সুরে কন্ঠ মিলিয়ে চির নতুনের ডাকে জেগে উঠে বাংলার নগর-গ্রাম-মফস্বল।

পূর্বের বছরের সকল গ্লানি ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুন প্রত্যাশায় প্রতি বছরই মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরচারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে।তারই জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

সোমবার সেখানে গিয়ে দেখা যায় এক উৎসবের আমেজ।বরাবরের মত এবারও প্রতিষ্ঠানটি হাতে নিয়েছে নানা কর্মসূচি। কোটি বাঙালীর মনকেরাঙিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় শোভাযাত্রাটিকে সফল করতে রঙ তুলির খেলায় মেতে উঠেছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা। এখন দম ফেলারও সময় নেই তাদের।

মূলত চারুকলাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় রাজধানীর বৈশাখী উৎসব। সেই লক্ষ্যেই গত ২৫ মার্চ থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

Advertisement

প্রতিবছরই তাদের শোভাযাত্রার একটা থিম থাকে। তাদের এবারের থিম হচ্ছে ‘অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে’। সাম্প্রতিক সময়ের মাথাচারা দিয়ে বেড়ে উঠা মৌলবাদ আর সাম্প্রদায়িকতার নোংরা চেতনাকে মানুষের মন থেকে ধুয়ে মুছে দিতেই নির্বাচন করা হয়েছে এই থিমটি।

ফলে এই থিমের আঙ্গিকেই বিভিন্ন ছবি, প্রতিমূর্তি তৈরি করা হচ্ছে সেখানে। এছাড়াও আবহমান বাংলার দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সকল ছোঁয়াই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা রঙে। সেখানে মাটির পাত্রে রঙ তুলি দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা কারুকার্য।বেত এবং বাঁশের চঁটা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল বিশাল মূর্তি, বাঘ, হরিন, হাঁস, দোয়েল, বিরাল, শাখের হাঁড়ি, শিশু, পেঁচা ইত্যাদি। এগুলোর গায়ে রঙিনকাগজ মুরে তাতে প্রাণের সঞ্চার করবেন শিক্ষার্থীরা।

এবার তারা কোনো স্পন্সর পায়নি বলে একটু আর্থিক কষ্ট হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা হাঁড়ি পাতিলের উপর নানা নঁকশা এবং কারুকার্য এঁকেতা বিক্র করেই আর্থিক সংস্থান করছেন। এসব কারুকার্য এবং নকশার ভালো সমঝদারও পাচ্ছেন তারা।

পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য আগামী ১৩ই এপ্রিল সন্ধায় চারুকলা এক সাংস্কৃতিক অনুষ্টানেরও আয়োজন করেছে।