চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা কেন পিছিয়ে?

বিশ্বের প্রায় প্রত্যেক দেশেই নগরবাসী বা নাগরিকগণ সরকারকে ট্যাক্স-ভ্যাট দিবেন এটাই নিয়ম। আর যারা বেকার, সরকার ঐ ট্যাক্সের টাকাই বেকার, গরীব, অহসহায়দের মাঝে বন্টন করবেন বা দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে খাটাবেন। তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খাত ভিন্ন, কারণ সরকার বর্জ্য ফেলেন না। জনগণ থেকে পাওয়া একটি পয়সাও তারা এই খাতে ব্যয় করেন না।

তবে সে দেশের সরকার আইনে বেধে কোন প্রোডাক্ট বাজারে ছাড়ার সময় ট্যাক্স ভ্যাটের বাহিরে রি-সাইকেল ফি নামে একটি অর্থ বসিয়ে দেন। যেমন কোন ব্যবহারিক বস্তু কিনতে হলে সেটি পুরনো হয়ে যাওয়ার পরে অবশ্যই মানুষ সেটি ফেলে দেয় বা নষ্ট করে ফেলে আর ফেলতে হলে তা বর্জ্যই হয়ে যায়। হোক তা চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল বা গাড়ি। সরকারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আলাদা একটি ডিপার্টমেন্ট থাকে যারা ঐ কেটে রাখা রি-সাইকেল ফি দিয়ে পাবলিক সেক্টর হায়ার করে, কারণ এটি কোন সহজ কাজ নয়। আছে নানাবিধ জীবনের ঝুঁকি।তাই উচ্চ বেতন দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করানোর ফলে “যত বর্জ্য তত লাভ” এই নীতিগ্রহণে ঐ সকল কোম্পানি বর্জ্য খুঁজে বেড়ান। এবং তা করতে সরকারের কোন বেগ পেতে হয়না বা কোন বাজেটেরও প্রয়োজন হয় না।

আরো সহজ করে যদি বলি,মনে করুন আমি যদি দোকান থেকে একটি চিপসের প্যাকেট ক্রয় করি, তবে আমাকে ভ্যাট ছাড়াও আলাদা এক টাকা পে করতে হবে ঐ চিপসের প্যাকেট রি-সাইকেল বা সেটা পরিষ্কার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কারণ ঐ প্যাকেটটি আমি রাস্তায়, ড্রেনে বা নির্দিষ্ট স্থানেই ফেলবো এবং সেটি বর্জ্যই হবে। এখন ভাবুন এমন করে প্রতিটি পণ্যে সরকারের কী পরিমাণ অর্থ আয় হতে পারে? আর সেই টাকা যদি শুধুমাত্র বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হয় কারই মাথা ব্যথা থাকে না,শহর ও পরিবেশ থাকে ঝকঝকে।

Advertisement

আমাদের দেশের সরকার পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প পরিসরে মেট্রোপলিটন শহরসহ জেলা শহরগুলোতে চেষ্টা করে দেখতে পারে। যে সকল পণ্যের প্যাকেট অপচনশীল, পরিবেশ এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে যেমন পানির বোতল চিপস চানাচুর প্যাকেট পলিথিনে মোড়া ভোজ্যপণ‍্য ইত্যাদি এক টাকার স্ট্যাম্প, সিগারেটের প্যাকেটে যেমন থাকে। বাধ্যতামূলক করে দিয়ে প্রাইভেট সেক্টরকে দায়িত্ব দিলে দেশের ময়লা খুঁজে পাওয়া যাবে না। হবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান।

এতে বর্জ্য রি-সাইকেলের মাধ্যমে জৈব সারসহ নানাবিধ কমদামে নুতন প্রোডাক্ট তৈরি, যা দেশের জিডিপিতে ভূমিকা রাখবে। এবং কোম্পানিগুলো পলিথিনের প্যাকেট ছেরে পরিবেশ বান্ধব পাটের দিকে ধাবিত হবে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সকলের তরে সকলে আমরা হতে পারি প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)