চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন

১৬ হাজার কোটি টাকার ৮ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্যভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত আমিন বাজার এলাকায় ২৫ বছর মেয়াদী ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এই ক্রয় প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সভায় মোট ১৬ হাজার ২৭১ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ২৯২ টাকার ৮টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া  হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে আছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৫টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১টি, বিদ্যুৎ বিভাগের ১টি এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১টি। এতে সরকার থেকে ব্যয় করা হবে ১৫ হাজার ৬২৮ কোটি ২১ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে ৬৪৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজটি বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এই প্রকল্পের কাজটি পেয়েছে চীনা মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিএমইসি)।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এটা ইনসিনারিয়েশন পদ্ধতিতে বর্জ্য পোড়ানোর একটি প্ল্যান্ট। আমরা সেখান থেকে বিদ্যুৎ পাব। দেশে এটা নতুন ধরনের পদ্ধতি যেখানে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রতি কিলোওয়াট দাম পড়বে ১৮.২৯৫ টাকা।

অন্যান্য প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (এসএবিআইসি) থেকে পঞ্চম লটে ২৫ হাজার টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৬ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সৌদি আরবের একই প্রতিষ্ঠান থেকে ষষ্ঠ লটের ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৬ কোটি ৬১লাখ টাকা। একই প্রতিষ্ঠান থেকে সপ্তম লটে ৫৬ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমাদন দিয়েছে কমিটি।

এছাড়া, বিসিআইসি কর্তৃক আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের আরিস ফার্টিলাইজারস গ্রুপ প্রাইভেট লিমিটেডের (স্থানীয় এজেন্ট: পোটন ট্রেডার্স, ঢাকা) কাছ থেকে প্রথম লটে ২৫ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে  ৬৬ কোটি ৮৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। একই প্রতিষ্ঠানের মাধ‌্যমে সুইস সিঙ্গাপুর ওভারসিজ এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে প্রথম লটে ৬৬ কোটি ৮৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশন ‘প্রদিনটর্গ’ এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির অপর একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩৪১ কোটি ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে খুলনা সড়ক বিভাগের আওতাধীন ‘দিঘুলিয়া (রেলগেট)-আড়ুয়া-গাজীরহাট-তেরখাদা সড়কের প্রথম কিলোমিটারে ভৈরব নদীর ওপর সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের সেতু নির্মাণসহ পূর্ত কাজে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদা কন্সট্রাকশন লিমিটেডকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩০২ কোটি ৭৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ফরিদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠী, ভোলা, নওগাঁ, সিলেট জেলায় ৬টি রাইস মিল স্থাপন সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।