চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বন্ধের মধ্যে ব্যারিকেড ভেঙে বাড়ি ফিরছে শ্রমিকরা

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বাড়ি ফেরত শ্রমিকদের উত্তর প্রদেশে প্রবেশ বন্ধ ঘোষণার পরের দিন দেখা গেছে শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়।

কয়েক হাজার শ্রমিকে ছোট শিশু, ব্যাগ নিয়ে কেউ পায়ে হেটে, কেউ সাইকেলে, কেউ ট্রাকে করে রওনা হয়েছে। রাস্তায় ফেলে রাখা ব্যারিকেডও ভেঙে ফেলেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল ভোরে ভারতের উত্তর প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। করোনা সংক্রমণরোধে দেশজুড়ে চলমান লকডাউনের কারণে লড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এ নিয়ে লকডাউনের মধ্যে বিভিন্ন উপায়ে নিজ রাজ্যে ফিরতে গিয়ে হতাহত হয়েছেন প্রায় দুশ’ শ্রমিক।

বিজ্ঞাপন

রাজস্থান থেকে শ্রমিকেরা বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে যাচ্ছিলেন। ২৪ জন ঘটনাস্থলে মারা যান। ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওই ঘটনার পরেই সন্ধ্যায় ওই সব শ্রমিকদের উত্তর প্রদেশে প্রবেশ বন্ধের নির্দেশ দেয় মুখ্যমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তবে বাড়ি ফিরতে চাওয়া ওই শ্রমিকদের দাবি, সরকার তাদের জন্য থাকা খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করেনি।

এর আগে ভারতের মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় রাস্তার ধারে দেখা যায় দুই শ্রমিকের হৃদয় বিদারক দৃশ্য। ভিন রাজ্যে কাজ করা ওই দুই বন্ধু মিলে বাড়ি ফিরছিলেন। 

প্রচণ্ড তাপদাহে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। প্রাণ হারানো শ্রমিকের নাম অমৃত। তিনি সুরাতে এক পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বাড়ি উত্তরপ্রদেশের বস্তিতে। কাজ হারিয়ে গুজরাট থেকে উত্তরপ্রদেশে ফিরতে এক ট্রাকে উঠেছিলেন শ্রমিকদের একটি দলের সঙ্গে।

ইন্দোরগামী ওই ট্রাকের পিছনে দাঁড়ানোর জায়গার জন্য ৪,০০০ টাকা নেওয়া হয় তার কাছ থেকে। কিন্তু পথে যেতে যেতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর শিবপুরীতে তাকে ট্রাক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। অন্যরা কেউই তার সঙ্গে থাকেননি। কেবলমাত্র বন্ধু ইয়াকুব তার সঙ্গে ট্রাক থেকে নেমে যান।

ইয়াকুব পথের ধারে বন্ধু অমৃতকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। সবার কাছে সাহায্য চাইছেন তিনি। কিন্তু কেউ শুনছেন না। এক স্থানীয় বাসিন্দা এমন মর্মস্পর্শী দৃশ্যের ছবি তুলে রাখেন।

শিবপুরীর এক চিকিৎসক জানান, অমৃতের প্রচণ্ড জ্বর ছিল। সেই সঙ্গে বমি। তাপদাহে আক্রান্ত হলে এই ধরনের সমস্যা হয়। তবে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল এলে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।