চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বন্ধুর নামে পুরস্কার পাওয়াটা অত্যন্ত সম্মানের: হাসান ইমাম

এবার আলতাফ মাহমুদ সম্মাননা পাচ্ছেন হাসান ইমাম ও ফেরদৌসী মজুমদার

বাংলা গানের অন্যতম সুরস্রষ্ঠা শহীদ আলতাফ মাহমুদ। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র মতো চির অম্লান গানের সুরকার তিনি। তার পরিবারের উদ্যোগে তার নামে বেশ ক’বছর ধরে দেয়া হচ্ছে সম্মাননা। আর এবার এই পুরস্কার পেলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম ও ফেরদৌসী মজুমদার।

১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট মহান সুরকার আলতাফ মাহমুদকে পাকিস্তানি হানাদাররা বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় তাকে। এরপর আর সন্ধান মেলেনি তার। গুণী এই মানুষটিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে বৃহস্পতিবার চ্যানেল আইয়ে এসেছিলেন আলতাফ মাহমুদের বন্ধু ও দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম ও আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ।

আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ছাড়াও তার গানের জীবন নিয়ে কথা বলেন। প্রতি বছরের ৩০ আগস্ট শহীদ আলতাফ মাহমুদকে আরো বেশি স্মরণ করে রাখতে ২০০৫ সালের এই দিনটিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনটি এবার ১৪ তম বছরে পদার্পন করল।

সংগঠনটি নিয়ে শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ বলেন, শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠার পেছনে প্রাথমিকভাবে কাজ করেছেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। ফাউন্ডেশন নিয়ে কাজ করার জন্য যার কাছে আমি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ। তিনি মূলত পুরো বিষয়টিকে আয়োজন করে আমাদের উপরে ছেড়ে দিয়েছিলেন। যেখানে আমি, শিমুল ইউসুফ, টিপু সেই সাথে আরো রয়েছে পরিবারের সবাই। এছাড়াও আরো আছে যারা নিস্বার্থ ভাবে নিজে থেকে কাজ করতে আগ্রহী তারাও।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবছরই এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এপর্যন্ত অনেকেই সেই সম্মাননা পেয়েছেন। এবছর সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে ফেরদৌসী মজুমদার ও সৈয়দ হাসান ইমামকে।

সম্মাননা হিসেবে প্রতিবছর থাকে একটা টোকেন মানি, একটা ক্রেস্ট ও একটা উত্তরীয়। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি করার আগ্রহ পোষণ করে শাওন মাহমুদ বলেন, প্রতি বছর দুজনকে দেওয়ার চেষ্টা থাকে, তবে মাঝে কয়েকটি বছর একজন করে দেওয়া হয়েছে। সাধ্যে কুলালে আগামীতে আরো বড় আয়োজন নিয়ে আসতে চাই।

বাবার অন্তর্ধান দিবসে গান নিয়েও একটা বড় আয়োজনের ইচ্ছে আছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, একটা জায়গা নিবো যেখানে ৩০ আগস্টের আগের দিন থেকেই সবাই গান করবে। যার যার গান নিয়ে সবাই হাজির থাকবে সেখানে। এমন না যে শুধু আলতাফ মাহমুদের গান থাকবে সেখানে, কারণ আলতাফ মাহমুদের কোন বাধ্যবাধকতা ছিলেন না। তিনি সবাইকেই স্বাগত জানাতেন। ৩০ আগস্টের এই অনুষ্ঠানটিকে আমি অন্তর্ধান থেকে উদযাপন করবার জন্য চাই। যাতে মানুষ শোককে শক্তিতে পরিনত করে উদযাপন করে। এটাই আমি চাই।

এদিকে শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার স্মরণে সন্মাননা পাওয়ার অনুভূতি জানিয়েছেন হাসান ইমাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা তো একটা বিরাট পাওনা আমার কাছে। কারণ আমাদের বন্ধু, আমাদের অত্যন্ত আপনজন, যিনি অমর হয়ে গেছেন ইতিহাসে, তার নামে একটি পুরষ্কার এটাতো একটা বিরাট ব্যাপার।

বন্ধু আলতাফ মাহমুদের নামে পদক পাওয়া অন্য যেকোনো পুরস্কারে চেয়ে বেশি গুরুত্বের জানিয়ে প্রবীন এই অভিনেতা বলেন, স্বাধীনতা পদক বা একুশে পদক যেগুলো জাতীয় ভাবে আমি পেয়েছি, এগুলো তো সর্বোচ্চ পদক। কিন্তু এই ধরনের পদক আমাদের কাছে তার থেকেও অনেক বড় পাওয়া। তবে আলতাফকে যদি আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পেতাম তবে আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার আরো অনেক সমৃদ্ধ হত। কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যক্রমে তাকে পাইনি। আলতাফ মাহমুদ আমাদের অত্যন্ত প্রিয় একজন বন্ধু। আর এই রকম একজন বন্ধুর নামে পুরষ্কার এটা আমার কাছে বিরাট পাওয়া।

বিজ্ঞাপন