চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বধ্যভূমিগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হোক

একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা সারাদেশকেই একরকম বধ্যভূমিতে পরিণত করে ৩০ লাখ বাঙ্গালীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো নানা কৌশলে সেইসব বধ্যভূমির বেশির ভাগই চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সারাদেশে ৯৪২টি বধ্যভূমি শনাক্ত করে। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমে ১৭৬টি বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। পরে সিদ্ধান্ত হয় ১২৯টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের। বধ্যভূমিগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে দৈনিক প্রথমআলো রোববার একাধিক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেইসব প্রতিবেদনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের বর্তমান অবস্থার এক ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বধ্যভূমিগুলো থেকে সরকার ৩৫টিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে। প্রায় ৬০ কোটি টাকা খরচ করে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ওই বধ্যভূমিগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। তারমধ্যে কোনোটার পাশে এখন শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে, কোনোটা ব্যবহৃত হচ্ছে রিকশা ও টেম্পো গ্যারেজ হিসেবে। কোনোটা আবার নেশাখোরদের আড্ডার স্থান হিসেবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বেশির ভাগ স্মৃতিস্তম্ভ জরাজীর্ণ, পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। যাদের রক্তে দেশ স্বাধীন হলো, সেই স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর ওইসব শহীদদের স্মৃতির প্রতি এমন অবজ্ঞা-অবহেলা আমাদের বিস্মিত করে। আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি সরকারের এতো এতো প্রতিষ্ঠান থাকার পরও দেশের জন্ম ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রমাণ সংরক্ষণের দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউই। একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে চাইছে। আমরা চাই এ বিষয়ে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভগুলো নতুন  করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হোক। আর যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজসে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভগুলো তৈরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

Bellow Post-Green View