চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বদি, জোসেফ, একরাম: গল্পটা ভিন্ন হতে পারতো

আম্মা আমি চলে আসবো। তাড়াতাড়ি চলে আসবো। মৃত্যুর ঠিক আগে প্রিয় মেয়ের সাথে একরামুল হকের শেষ কথা। টেকনাফের তিনবারের নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক। তিনি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন কিনা কিংবা তিনি ইয়াবা ব্যবসায়ি ছিলেন কিনা সে প্রসঙ্গে আমি যাচ্ছি না। আমি শুধু ভেবেছি তার মৃত্যু নিয়ে। ভেবেছি মৃত্যর আগে তার পরিবারের সাথে বলা সেই অডিও ক্লিপ নিয়ে। একজন মানুষ হিসেবে তার মৃত্যু আমাকে নাড়া দিয়েছে। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে আপরাধী করে তুলেছে। শুধু আমি নই, পুরো বাংলাদেশ কেঁদেছে সেই অডিও ক্লিপে। একটি অডিও ক্লিপ কীভাবে একটি দেশের পুরো সমাজকে-মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে পারে-স্তম্ভিত করে দিতে পারে ,তার বড়ো প্রমাণ এই মুহূর্তে একটি অডিও ক্লিপ।

গত ১৪ মে থেকে শুরু হওয়া সারাদেশে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। ৩ ‍জুন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের এই যুদ্ধকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এই অভিযান অনেক কার্যকর হবে বলে সবাই মনে করছে। গ্রামে এখন গোল্ডলিফ সিগারেট পাওয়া না গেলেও ইয়াবা সহজলভ্য। হাত বাড়ালেই নাকি মেলে ইয়াবা। আর সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেতো মাদকের বিস্তার ভয়াবহ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই অবস্থায় মাদক বিরোধী অভিযানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন অনেকেই। কিন্তু একরামের একটি অডিও ক্লিপ এই অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারপরের দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের একটি মন্তব্য দেশবাসীকে আরো ভাবিয়ে তুলেছে। বড় অভিযানে ছোটখাট ভুল হতেই পারে এমন একটি মন্তব্য কোন দায়িত্বশীল জায়গা থেকে যে করা যায় না সেতুমন্ত্রী সেটা ভুলে গিয়েছিলেন। মাননীয় মন্ত্রী, কারো মৃত্যু কোন ছোটখাট ভুল হতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

যাই হোক বাস্তবতা হচ্ছে একরাম আর নেই। তার পরিবার একরামের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড অভিযোগ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেছে। সংবাদ সম্মেলনে একরামের পরিবারের কান্না সবাই দেখেছে। এক একরামসহ সারাদেশে ১৩১ জনের মৃত্যু দেশের মাদকের বিস্তার ঠেকাতে কতটুকু কাজ করবে সেটা সময় বলে দেবে। যেখানে মাদক পাচারের রুটগুলো উম্মুক্ত।

একরামের অডিও ক্লিপ শোনার পর এক ধরনের বোবা বিষণ্ণতা আমাকে গ্রাস করেছে। আমি ভেবেছি একজন একরাম নেই। কিন্তু এমপি বদি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। যার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে কিন্তু প্রমাণ নেই। শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু গল্পটা হয়তো ভিন্ন হতে পারতো। এমনতো হতে পারতো এমপি বদি মাদক বিরোধী অভিযানের আওতায়। জোসেফের শাস্তি বহাল। একরামের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তা বিচারের আওতায় আনা যেতো। তাহলে নির্বাচনের আগে সরকারে ভাবর্মূতি বাড়তো বই কমতো না।

সব কথা হয়তো বলা যায় না । কিন্তু আগে জানতাম অডিও’র চেয়ে ভিডিও অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু শক্তির বিবেচনায় কখনো কখনো অডিও হয়ে উঠতে পারে ভিডিও’র চেয়েও বেশী শক্তিশালী। দেখা যাক, আমরা মানুষ যা বলতে পারিনি অথবা পারছিনা, একটি অডিও ক্লিপ তা পারে কিনা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)