চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বদি কোথাও নেই, বিষণ্ণ মুনা

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিক নাটকের চরিত্র বাকের ভাই, মুনা, বদি, মজনু। মুনা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা। বাকের ভাইয়ের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন বদি। যে চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন আবদুল কাদের। বদির প্রয়াণে বিষণ্ণ মুনা সামাজিক মাধ্যমে পুরনো দিনের এক অজানা স্মৃতির কথা শেয়ার করেছেন।

সুবর্ণা মুস্তাফা লিখেছেন, ‘১৯৮৬, ফরীদি এবং আমি ভারতে যাচ্ছিলাম। ফ্লাইট ছিল পরের দিন। আমাদের দরজায় কেউ একজন কড়া নাড়লেন, ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা হাতে কাদের ভাই দাঁড়িয়ে। তিনি সেটি আমাদের দিলেন, ‘ইন্ডিয়া যাবা, সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখবা আর ছবি তুলবা…’ এমনই ছিলেন কাদের ভাই। আমাদের তখন কোনো ক্যামেরা ছিল না, সেটা কাদের ভাই কীভাবে জানলেন সেই ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই এখন পর্যন্ত…! এটি আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি। শান্তিতে থাকুন কাদের ভাই। আমরা আপনাকে ভালোবাসি।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ক্যানসার আক্রান্ত অভিনেতা আবদুল কাদের।

বিজ্ঞাপন

তার মৃত্যুতে অভিনয় জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

ব্যাক পেইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন আবদুল কাদের। উন্নত চিকিৎসার জন্য গেল ৮ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এই অভিনেতাকে। সেখানকার হাসপাতালেই ১৫ ডিসেম্বর ক্যানসার আক্রান্তের খবর জানতে পারেন তিনি ও তার পরিবার। শুধু তাই নয়, জানা যায় ক্যানসার চতুর্থ স্তরে। সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

শারীরিক দুর্বলতার কারণে কেমোথেরাপি না দিয়েই আবদুল কাদেরকে ২০ ডিসেম্বর দেশে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তার পরিবার। দেশে ফিরে এদিনই ভর্তি করানো হয় রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসা চলছিলো তার।

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিক নাটকে বদি চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান আবদুল কাদের। নাটক, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রেও দেখা গেছে তাকে। থিয়েটারেও সরব ছিলেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, এখনও ক্রীতদাস, তোমরাই, স্পর্ধা, দুই বোন, শিবের গীত, মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।