চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channeliadds-30.01.24Nagod

বদির জন্যই বাঙালির হৃদয়ে পৌঁছে যান আবদুল কাদের

নব্বই দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সবচেয়ে আলোচিত ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’-তে বদি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আবদুল কাদের। এক নাটকেই তিনি মানুষের কাছে তুমুল পরিচিত হয়ে উঠেন। 

পরিচিতি এতোটাই ছড়িয়ে ছিলো যে, আবদুল কাদেরের নামই হয়ে যায় ‘বদি’! অন্য নাটকে আবদুল কাদেরকে দেখলেও দর্শক তাকে বদি নামেই চিহ্নিত করতেন।

বেশ কয়েক বছর আগে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে আবদুল কাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের পর আপনার নামই হয়ে গিয়েছিল ‘বদি’। সেটার কি পরিবর্তন হয়েছে? উত্তরে অসম্ভব হিউমার সম্পন্ন এই অভিনেতা বলেছিলেন, ‘পরিবর্তন একটাই। তখন সবাই বদি ভাই বলতো, এখন কিছু জায়গায় বদি চাচা বলা শুরু হয়েছে।’

চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাদের বলেছিলেন, ‘‘বাকের ভাই এবং বদি এই দুটো নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হতো নব্বই দশকে। যখন ‘কোথাও কেউ নেই’ এর শেষ পর্ব প্রচারিত হয় তখন ঢাকা শহর কারফিউয়ের মতো হয়ে গিয়েছিল। সবাই দোকানপাট বন্ধ করে টেলিভিশনের সামনে বসেছিল। শেষ পর্ব প্রচারের পরে মানুষ আমার ওপর ক্ষেপে গিয়েছিল। ব্যাপারটি এত জোরালো ভাবে এসেছিল, আমার বাড়ির চারপাশে পোস্টার লাগানো হয়েছিল ‘বদি তুমি সাক্ষী দিলে, ভাসবে তুমি খালে-বিলে’।’’

Reneta April 2023

আবদুল কাদের আরও বলেন, ‘আমি একজন অভিনেতা। নির্দেশক যেভাবে লিখবেন, সেভাবেই অভিনয় করবো। শেষ পর্ব প্রচারের তিন চারদিন আগে ফাঁস হয়েছিল বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়ে যাবে। সেই সময়ে সবাইকে হুমকি দেয়া হয়েছিল। আমি তখন হুমায়ূন ভাইকে বললাম, ‘বাকের ভাইয়ের ফাঁসি না দিলে হয় না?’ হুমায়ুন ভাই বক্তৃতার মতো বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর কেউ বাকেরের ফাঁসি আটকে রাখতে পারবে না।’

মঞ্চ অভিনয় থেকে কীভাবে টেলিভিশনের পর্দায় এলেন সেই প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘আমি মহসিন হলের ড্রামা সেক্রেটারি ছিলাম। ডাকসুর নেতৃত্বে নাট্যচক্র গঠন করা হয়। নাট্যচক্র করতে করতে আমরা দল গঠন করলাম। নাম ‘ঢাকা থিয়েটার’। সেখানে কয়েকটি নাটক করলাম সেলিম আল দীনের। তারপর থিয়েটারে চলে যাই। থিয়েটারে দীর্ঘদিন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছি। যখন ঢাকা থিয়েটার করি, রিয়াজউদ্দিন বাদশাহ তখন ‘এসো গল্পের দেশে’ ধারাবাহিকে সুযোগ দিলেন। সেখান থেকে টেলিভিশনে অভিনয়ের শুরু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগে মাস্টার্স করা আবদুল কাদের পেশায় একটি কর্পোরেট অফিসের সিইও ছিলেন। পর্দায় লোক হাসানো আবদুল কাদের অফিসের বড়কর্তা হিসেবে কি গম্ভীর?

প্রশ্ন করা হলে অভিনেতা উত্তর দিয়েছিলেন,‘আমি যখন অফিসে ঢুকি তখন গম্ভীরভাবে ঢুকতে হয়। কিন্তু আগেরদিন হয়তো একটা মজার নাটক প্রচার হয়েছে, তখন তারা অনেক সময় হেসে দেয়, আবার মাথা নিচু করে ফেলে। কিন্তু আমার গাম্ভীর্য বজায় রাখতে হয় অফিসে। অফিসের কাজে কোথাও গেলেও অনেক সময় মানুষ মজা পায়। এক্সট্রা খাতিরও পাওয়া যায়।’

নাটক, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রেও দেখা গেছে আবদুল কাদেরকে। থিয়েটারেও সরব ছিলেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, এখনও ক্রীতদাস, তোমরাই, স্পর্ধা, দুই বোন, শিবের গীত, মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।