চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যে গানের রিমেকে বদলে গেছে পাবেল-আভরালের জীবন

নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া রিমেক গান ‘বুক চিন চিন করছে’র মাধ্যমে বদলে গেছেন দুই নবীনের সংগীত ক্যারিয়ারের পথচলা। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তাদের জীবনটাও এ গানের সাফল্যে বদলে গেছে!

শিল্পী জাহেদ পারভেজ পাবেল এবং সংগীত পরিচালক আভরাল সাহির গানটির সাফল্যের নেপথ্যে ছিলেন। পাবেল গেয়েছেন এবং আভরাল গানটি নতুন করে সংগীতায়োজন করেছেন।

নতুন আয়োজনের গানটি ব্যবহার করা হয়েছে মহিদুল মাহিমের ‘শিল্পী’ নাটকে। যেখানে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় জুটি আফরান নিশো ও মেহজাবীন। ২৩ জানুয়ারি গানটি ইউটিউবে প্রকাশ হয়। তার আগে ‘শিল্পী’ নাটক উন্মুক্ত হয় ১৮ জানুয়ারি। যেখানে ছিল আরও চারটি গান! এর মধ্যে ‘বুক চিন চিন করছে’ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।

পরে গানটি ইউটিউবেও আলাদাভাবে মুক্তি দেয়া হয়। প্রকাশের এক মাসের মধ্যে কোটির উপরে দর্শক গানটি দেখেন। ফেসবুক, ইউটিউব টিকটক/লাইকি প্লাটফর্মে জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে পাবেল এবং আভরাল সাহিরের তৈরি গানটির ভিউস দেড় কোটির বেশি! বিষয়টিকে সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘বুক চিন চিন করছে’ গানটি মূলত ‘বাস্তব’ সিনেমার। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত সেই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন মান্না ও পূর্ণিমা। কবির বকুলের লেখা, আলী আকরাম শুভর সংগীতায়োজনে গানটি গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর ও ডলি সায়ন্তনী।

সেই ‘বুক চিন চিন করছে’ নতুন করে গেয়ে ভাইরাল হওয়ার পর শিল্পী পাবেলের জীবন অনেকটাই বদলে গেছে। তিনি জানালেন, ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাবেলের দশটি মিক্সড অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল। তবে প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল ২০১৫ সালে। পাবেল জানান, ওই অ্যালবামের ‘শুধু তুমি’ গানটি থেকে খুব ভালো সাড়া পেয়েছিলেন। সেটি ছিল তার প্রথম মিউজিক ভিডিও।

পাবেল বলেন, কণ্ঠশিল্পী শিরিন আপুর সঙ্গে ‘পিরিতির নেশা’ নামে একটি ডুয়েট গানও মানুষ পছন্দ করেছিলেন। ‘শিল্পী’ ছাড়া আরও চারটি গানে গান করেছিলাম। ‘শেষ চাওয়া’ ও ‘প্রথম দেখা’ নামে দুটি নাটকের গানে ভালো সাড়া পেয়েছিলাম।

বিজ্ঞাপন

তবে এবার ‘বুক চিন চিন করছে’ গানটি ক্যারিয়ারে টার্নিং উল্লেখ করে চ্যানেল আই অনলাইনকে পাবেল বলেন, প্রচুর মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। নতুন করে আমার গানের দর্শক তৈরি হয়েছে। মানুষ আমাকে নতুনভাবে চিনেছেন। সবকিছুতে পরিবর্তন অনুভব করছি। স্টেজ শো’র অফার এসেছে। টিভি অনুষ্ঠান, বিভিন্ন মিউজিক কোম্পানি থেকে গানের জন্য ডাক আসছে। সলো, ডুয়েট মিলিয়ে নতুন তিনটি মৌলিক গানের কাজ করছি। বর্তমানে জীবনের খুব ভালো সময় পার করছি। সময়টাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।

একই পরিবর্তন অনুভবন করছেন সংগীত পরিচালক আভরাল সাহির। তবে ২০১৭ সালে শিরিনের ‘গানওয়ালী’র সংগীতায়োজন করে কিছুটা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। আভরাল সাহির বলেন, ফুয়াদ ভাই (ফুয়াদ আল মুক্তাদির) ও হাবীব (হাবীব ওয়াহিদ) ভাইয়ের পরে শিরিন আপুর পুরো অ্যালবামের কাজ আমিই প্রথম করেছিলাম। এটাও একটি অর্জন মনে করি।

তিনি বলেন, আগে থেকে কাজের চাপ ছিল। তবে এখন প্রেসার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। খাওয়া ঘুমানোর সময় পাচ্ছি না! হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আগামীতে যত ভালো কাজ আসছে সেগুলো আমি থাকবো এটাই সৌভাগ্যের বিষয়।

‘বুক চিন চিন করছে’ গানটি নিয়ে আভরাল সাহির বলেন, পরিচালক মহিদুল মাহিম ভাই গানটি পছন্দ করেছিলেন। নিউ ভার্সনে পাঁচটি গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরি করতে প্রচুর পরিশ্রম করেছিলাম। দর্শক সবচেয়ে পছন্দ করেছেন ‘বুক চিন চিন করছে’। একেবারে ম্যাসিভ হিট!

আভরাল সাহির আরও বলেন, মানুষ সবসময় ভিন্নতা ও নতুনত্ব পছন্দ করেন। পরিচালকের সঙ্গে আলাপ করে রিমেক গানগুলো খুব বেশি আপডেট করতে চাইনি। নব্বইয়ের ফিল ঠিকই আছে কিন্তু সাউন্ড-মিউজিক আপডেট করেছি। পাবেলকে দিয়ে ছেলে মেয়ে কণ্ঠে রেকর্ডিং করিয়ে টেস্ট করেছিলাম। পরে দেখলাম আমাদের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি ভালো গেয়েছেন। তখন পাবেলকেই চূড়ান্তভাবে রাখি। শিল্পী নাটকের এ গান দিয়ে বুঝলাম খুব বেশি জটিল কিছু দর্শক গ্রহণ করেন না।

আগামীতে সিনেমার সংগীত পরিচালনা করতে যাচ্ছেন বলে জানালেন আভরাল সাহির। তিনি বলেন, কয়েকটি ভালো সিনেমায় কাজ করছি। সঙ্গে ওয়েব সিরিজ, ওয়েব ফিল্ম রয়েছে।

বলিউডের শিল্পীদের নিয়েও গান তৈরির কাজ চলছে। তবে এটা এখন এগুলো সারপ্রাইজ হিসেবে থাকুক। বাংলাদেশে যত ভালো ভালো পরিচালক আছেন, সবার সঙ্গে আমি বর্তমানে কাজ করছি।

বিজ্ঞাপন