চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বছরের প্রথম ছবি: বিরক্ত দর্শক, ক্ষুদ্ধ হল মালিক

ঢাকাই ছবির জন্য বছরের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। যে প্রত্যাশা নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, সপ্তাহের দ্বিতীয় শুক্রবারেই যেন তা পর্যুদস্ত! অন্তত নতুন ছবি দেখে দর্শক আর হল মালিকদের বিরক্তি প্রকাশে তেমনটাই মনে হলো।

বলছি, নতুন বছরের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘জয় নগরের জমিদার’-এর কথা। বছরের প্রথম ছবি হিসেবে ছবিটি শুক্রবার মুক্তি পেলেও প্রত্যাশা তো পূরণ হয়নি ই, উল্টো ছবিটি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন হল মালিকরা।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সাঁটানো এই ছবির পোস্টারে পরিচিত কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রীর মুখ দেখা না গেলেও, দর্শককে আকৃষ্ট করতে পোস্টার রাখা হয়েছে মমতাজ, সালমা ও লিজার মতো কণ্ঠশিল্পীদের ছবি। এই ছবিতে রয়েছে তাদের গাওয়া গান। যদিও হল মালিকরা বলছেন, এই ছোট্ট কৌশলও কাজে লাগেনি। কারণ, মুক্তির প্রথম দিনেই প্রেক্ষাগৃহ ছিলো একেবারে ফাঁকা!

একাধিক সিনেমা হল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের কোনো শোতেই দর্শক নেই। যে গুটি কয়েক দর্শক দেখছেন, তারাও ছবিটি দেখে বিরক্ত। কিন্তু কেন? উত্তরে হল মালিকরা বলছেন, ‘এমন গল্পের ছবি অনেক আগেই ভুরি ভুরি হয়ে গেছে। এগুলো দর্শক বহু আগেই দেখে ফেলেছেন! এখন কেন এমন ছবি দেখবে?’

মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘জয় নগরের জমিদার’। হলটির ম্যানেজার পরেশ মণ্ডল শনিবার দুপুরে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ছবির অবস্থা করুণ। প্রথমদিনে ১ হাজার আসনে দর্শক ছিল ১০ শতাংশ!

তিনি বলেন, নতুন ছবি না থাকার কারণে মানুষ এখন সিনেমা হলে আসতে চায় না। কিছু মানুষ এলেও তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ছবির কাহিনি দেখে। শনিবার দুপুরের শোতে কয়েকজন দর্শক দেখছে ‘জয় নগরের জমিদার’। গত সপ্তাহে শাকিব খানের ‘শুটার’ ছবি চলেছিল। এর চেয়ে বেশি দর্শক ছিল পুরাতন ওই ছবিতে।

রাজধানীর আরেক সিনেমা হল সৈনিক ক্লাবে চলছে ‘জয় নগরের জমিদার’। সেখানে শুক্রবার প্রথম পাঁচ শো মিলিয়ে দর্শক ছিল মোট সাড়ে চার’শ! নতুন ছবিতে দর্শকদের এই উপস্থিতির সংখ্যাকে খুবই নগণ্য বলে জানালেন সৈনিক ক্লাবের ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান। তিনি ছবিটিকে, ‘মানহীন’ বলে দাবী করলেন। বললেন, এ ধরনের ছবি এখন আর চলে না। মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন, ঘরে ঘরে স্যাটেলাইট। তারা কেন এসব ছবি দেখবে?

সৈনিক ক্লাবের ব্যবস্থাপক জানান, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চারটি সিনেমা হলের মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র সৈনিক ক্লাব। মানসম্মত এবং সময় উপযোগী ছবি, ভালো শিল্পীর উপস্থিতি থাকলে ওই সব ছবিগুলো মানুষ দেখতে আসে। পত্রপত্রিকায় দেখেছি, চলতি বছর কিছু ভালো ছবি আসছে, সেই প্রতীক্ষায় আছি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন ছবি নেই বিধায় এ ধরনের ছবি বাধ্য হয়ে চালাতে হচ্ছে। ভালো ছবি না দিতে পারলে কয়েক মাসের মধ্যে সৈনিক ক্লাবও বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই মালিকপক্ষ এ নিয়ে তোড়জোড় চালাচ্ছেন।

এদিকে, দেশের ঐতিহ্যবাহি সিনেমা হল মধুমিতায় নেয়নি ‘জয় নগরের জমিদার’। হলটির ব্যবস্থাপক ও প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আগেই খোঁজ নিয়েছি এটা ‘টেলিফিল্ম মার্কা’ ছবি। সেজন্য মধুমিতায় চালানোর সাহস করিনি। সকালে খোঁজ নিয়েছি, যে কটা হলে চলছে বেশিরভাগ জায়গায় মানুষ নেই।

তিনি জানান, এই ছবি চালানোর পরিবর্তে মধুমিতায় রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ছবি চালাচ্ছি।

তিনি বলেন, মানহীন ছবির হিড়িক এবং উন্নত মানের ছবির অভাবে সিনেমা হল কমতে কমতে ৭০-এর নিচে এসেছে। এ বছর অবস্থার পরিবর্তন না হলে সব হল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দেশে যতগুলো সিনেমা হল চালু রয়েছে বেশীরভাগ হল চালু রয়েছে শাকিব খানের পুরাতন ছবি দিয়ে। আরও বলেন, সরকার বছরে ছয়টি করে নতুন হিন্দি ছবি প্রদর্শনের কথা বললেও কোনো সাড়া নেই। এ ছবিগুলো এলে টুকে রেজুলেশন মেশিন হলের মালিকরা নিজেরাই কিনে লাগাবে। ওই ছবিগুলো এলে কিছুটা হলেও মানুষ আবার হলে আসবে।

‘জয় নগরের জমিদার’ ছবির পরিচালক এম শাখাওয়াৎ হোসেন। যিনি এর আগে ‘আসমানি’ সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করার করা চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি। সিনেমা হলের লিস্ট প্রকাশ ছাড়াই গণমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, দেশের ২২ টির মতো সিনেমা হলে চলছে ‘জয় নগরের জমিদার’।

অথচ বুকিং এজেন্ট সমিতি থেকে জানানো, রাজধানীর মধ্যে চারটি বলাকা, পূরবী, সৈনিক ক্লাব, চিত্রামহল এবং রাজধানীর বাইরে মাত্র একটিসহ মোট পাঁচটি সিনেমা চলছে এ ছবিটি।

এ ছবির অভিনেতা রাসেলও হল সংখ্যা নিয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, শুনেছি ১০-১৫ টি হলের কথা। সঠিক তথ্য জানা নেই।

ছবিতে অভিনয় করেছেন ফারজনা ছবি, আরমান পারভেজ মুরাদ, কাজল মজুমদার, শ্যামল জাকারিয়া, ম আ সালাম, কানিজ লিয়া, রাসেল প্রমুখ।

শেয়ার করুন: