চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর দুই পাড়ে ঈদযাত্রার চরম ভোগান্তি

ঈদযাত্রার শেষ দিনেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী ১৬ জেলার মানুষকে। বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই পাড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি থাকায় প্রিয়জনের কাছে যেতে নাকাল অবস্থা যাত্রীদের। গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা বেশি সময় লাগছে স্বাভাবিক যাত্রা সময়ের চেয়ে। সেই সঙ্গে তীব্র গরম ভোগান্তির মাত্রা আরো বাড়িয়েছে।

সিরাজগঞ্জের যাত্রী মোহাম্মদ আলী। ঢাকা থেকে গাড়িতে ওঠেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায়। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথেই গাড়ির ধীরে চলা শুরু। শেষ দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে গন্তব্যে পৌঁছেছেন প্রায় ৯ ঘণ্টায়।

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদ আলী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ঢাকা থেকে ছাড়ার পর ধীরে ধীরে গাড়ি চন্দ্রা পৌঁছায়। চন্দ্রা থেকে জ্যামের পরিমান বাড়তে থাকে। আর টাঙ্গাইলে গিয়ে তা রূপ নেয় তীব্র জ্যামে। টাঙ্গাইল বাইপাস পার হওয়ার পর গাড়ি আর চলেই না। একটু যাওয়ার পর বসে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে চলতে বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছাকাছি গিয়ে গাড়ি একেবারে থেমে যায়। এক জায়গাতেই গাড়ি থেমে থাকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। এভাবেই তীব্র গরম ও জ্যামের মধ্য দিয়ে অবশেষে প্রায় ৯ ঘণ্টায় পরিবারের কাছে পৌঁছান বলে জানান তিনি।

উত্তরবঙ্গমুখী আরেক যাত্রী সাদি কামাল তূর্য। তিনি যাত্রাপথে ভোগান্তির কথা জানিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ১২ ঘণ্টায়ও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি। গত রাতে ২টায় গাড়িতে উঠে যমুনা সেতুর কাছাকাছি এখনও (বিকেল ৫টা) বসে আছি। কখন বাড়ি পৌঁছাতে পারবো জানি না! শিশু-নারীদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। জানি না এই অবস্থা কেউ দেখছে কিনা?

বিজ্ঞাপন

মূলত বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই পাড়ে তীব্র জ্যামে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চাপাইনবাবগঞ্জের যাত্রী জাকির সবুজের ভোগান্তির শুরু আবার কাউন্টার থেকেই। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, শনিবার রাত ১০টায় আমার গাড়ি ছিল। কিন্তু গাবতলী কাউন্টার থেকেই গাড়ি ছাড়ে দিবাগত রাত ১ টায়। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পরই জ্যামের শুরু। গাড়ি ১০ মিনিট চলে তো আধাঘণ্টা বসে থাকতে হয়।

তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছে গিয়ে একেবারে আটকে যায় গাড়ি। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় সেতুর পূর্বপাশে। সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে সিরাজগঞ্জ রোড পর্যন্ত এই অবস্থা। গাড়ির দীর্ঘ সারি। তবে সিরাজগঞ্জ রোড থেকে রাজশাহীর পথে কোন জ্যাম নেই। যদিও সিরাজগঞ্জ রোড থেকে বগুড়ার পথে ঢাকামুখি গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখেছেন বলে জানান তিনি। ৭ থেকে ৮ ঘন্টায় পৌঁছে যাবার কথা থাকলেও অবশেষে দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা পর তিনি গন্তব্যে পৌঁছান।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি মোশারফ হোসেন বলেন, জ্যামের তীব্রতা ছিল মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে বিকাল সোয়া ৫টা পর্যন্ত। গাড়ির প্রচন্ড চাপের কারণে মূলত সেতুর পশ্চিম পাশে এবং টোল প্লাজাগুলোতে গাড়ি রিসিভ (ছাড়তে) করতে পারছে না। ফলে এই জ্যামের সৃষ্টি। তবে সোয়া ৫টার পর থেকে চাপ অনেকটা কমেছে বলে জানান তিনি।

ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Bellow Post-Green View