চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর বাবার চরিত্রে চঞ্চল: বললেন, এটি ইতিহাসের অংশ হবে

বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমানের মাঝ বয়সী (৪০ থেকে ৬০ বছর) চরিত্রে অভিনয় করছেন চঞ্চল চৌধুরী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিতব্য বায়োপিকের শিল্পী তালিকা আগেই ঘোষণা হয়েছে। এবার জানা গেল আরো এক চমক। চলচ্চিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমানের মাঝ বয়সী চরিত্রে অভিনয় করবেন দাপুটে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

মাস খানেক আগে জনপ্রিয় এ অভিনেতা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকটিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর বাবার মাঝ বয়সী (৪০ থেকে ৬০ বছরের বয়সকালীন) চরিত্রে অভিনয় করবেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের শিল্পী তালিকা দীর্ঘ। পাঁচ শতাধিত শিল্পীর অডিশনের পর গেল বছর ছবির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তখন চঞ্চলের নাম শোনা যায়নি। কেন এতো দেরিতে নাম ঘোষণা হলো জানতে চাইলে বুধবার দুপুরে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, কয়েক ধাপে শিল্পীদের নাম ঘোষণা হয়েছে। শুরুতে আমিও অডিশন দিয়েছিলাম। শেষ দুমাস আমার সঙ্গে কথোপকথন হয়েছে। মাসখানেক আগে নিশ্চিত হয়েছি বঙ্গবন্ধুর বাবার চরিত্রটি করছি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যখনই নিশ্চিত হয়েছি, তখন থেকেই মোটামুটি প্রস্তুতি চলছে। এ চরিত্রের জন্য যা যা প্রয়োজন মোটামুটি জেনেছি। চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ ছিল কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে ওনারা দুবোন তাদের পরিবার, জীবনযাপন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক, তাদের কেমনভাবে দেখতেন, দাদা দাদি বা আশপাশের মানুষের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক ছিল। স্বচক্ষে তারা দুজন যা যা দেখেছেন আমাদের জানিয়েছেন। এতে করে অনেক নতুন ধারণা পেয়েছি। তবে এখনও চূড়ান্তভাবে জানিনা যে গেটআপ কেমন হবে। শুটিংয়ে যাওয়ার পর পরিচালক আবার তার ব্রিফ দিবেন।

বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুুৎফর রহমানের ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়স সীমার সময়টুকুতে অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরী। তিনি বলেন, মাঝবয়সী সময়টুকুর চরিত্রে আমি অভিনয় করবো। যে সময় বঙ্গবন্ধু বিয়ে করেন এবং তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয় ওই সময়।

অন্যান্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আগে পিছনে অনেককিছু ভেবে মাঠে নামেন চঞ্চল। এই অভিনেতার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার গ্রাফ বলছে, চঞ্চল মানেই যেন বাজিমাৎ! অনেকেই তাকে চলচ্চিত্রে ‘লাকী আর্টিস্ট’ মনে করেন। চঞ্চলের প্রতিটি কাজ যেমন ব্যবসাসফল তেমনি মাইলফলক; বয়ে এনেছে রাষ্ট্রীয়সহ একাধিক সম্মাননা। প্রমাণ মনপুরা, মনের মানুষ, আয়নাবাজী, দেবী। আরও রয়েছে টেলিভিশন। সঙ্গে যোগ হয়েছে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ওয়েব সিরিজ ‘তাকদির’।

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক করার সুযোগ পাওয়ার আগে পিছে ভাবার অবকাশ নেই মনে করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। বলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন ইমোশনের জায়গা। তিনি রাজনীতির উর্দ্ধে। তাকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চলচ্চিত্র হচ্ছে। এতে তার পরিচিতি, জীবনী কর্ম বিশ্বব্যাপী আরও বেশি ছড়িয়ে যাবে। এমন কাজ আরো আগে হওয়া উচিত ছিল। যেটা পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে বায়োপিক হয়েছে। আমাদের দেশে দেরিতে হলেও হচ্ছে এটাই ভালো লাগার বিষয়। এখানে কাজের জন্য অন্যকিছুর হিসেব করিনি। চলচ্চিত্রটি ইতিহাসের অংশ হবে সেখানে অংশগ্রহণ করার লোভ সবারই আছে।