চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। 

বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপতি এই খুনির প্রাণভিক্ষার আবেদনের ফাইল খারিজ করেছেন বলে বঙ্গভবন সূত্র চ্যানেল আই’কে নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান: আবেদন খারিজের পর আজ মাজেদের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাৎ হতে পারে। আর মৃত্যুদণ্ডাদেশ ৩-৪ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। তবে সঠিক দিনক্ষণ বলা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

আসামির আপিল প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন: বর্তমানে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা আপিল বিভাগের সামনে বিচারাধীন নেই এবং আপিল করার যে সময়সীমা ছিল তাও অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে আসামির আপিল করার সুযোগ নেই।

বর্তমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্য সমর্থন করে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন: আবেদন খারিজের ফলে যেকোনো সময় মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হবে। আর পলাতক থাকায় এই আসামি আপিল করার সব অধিকার হারিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল বিচারিক আদালত বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদের মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করলে বুধবারই কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন মাজেদ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এই মাজেদ। তখন তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন।

আবদুল মাজেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত আরও পাঁচ খুনি বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন: খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এরা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ে আবদুল মাজেদসহ ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের দেয়া রায়ে ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। পরে ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। এরপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত পাঁচ আসামী রিভিউ আবেদন করেন। তবে সেই রিভিউ খারিজ করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই পাঁচ আসামি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ (ল্যান্সার), এ কে বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন (আর্টিলারি) এর ফাঁসি ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি কার্যকর হয়।