চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বক্তৃতা-বিবৃতির চেয়ে কার্যক্রম পছন্দ করে জনগণ

কোনো আলোচিত ঘটনা বা বিষয়ের পরে পরেই ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়তো অভিযুক্তের পরিচয় নিয়ে মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করে। সে কে, কীভাবে কী করেছেসহ নানা বিষয়ে আগ্রহ জন্মায় মানুষের মনে। দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড নয়তো কোনো রাজনৈতিক-সামাজিক ইস্যুতে এই ধারা চলে আসছে বহুবছর হলো।

যুক্ত-অভিযুক্তদের পরিচয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা বের হয়ে আসে, তাহলে পক্ষ-বিপক্ষের নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জনগণ সেগুলোও খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে, আর অভিজ্ঞতার আলোকে মন্তব্য করে থাকে ওই ঘটনার ভবিষ্যত নিয়ে।

রাজনৈতিক পরিচয় নয়তো পেশাগত প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড আর অবৈধ সম্পদ অর্জনের ধারা কয়েকযুগ ধরে চলে আসছে দেশে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ নিয়ে অভিযুক্তদের বিষয়েও একইরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশে। রিজেন্ট গ্রুপ আর জিকেজি হেলথের কর্তা ব্যক্তিদের পরিচয় আর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ময়নাতদন্ত চলছে।

রিজেন্ট গ্রুপের কর্তাব্যক্তির আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা থাকায় এবং সামাজিক মাধ্যমে ছবি ভাইরাল হওয়ায় বিব্রত অনেকে। তবে এসব বিষয়কে ইঙ্গিত করে স্পষ্ট সতর্ক বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের ভিতরে বর্ণচোরা সেজে যারা অর্থসম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা করে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাবধান করে দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন, জনগণের বুকের গভীরে রয়েছে এর শেকড় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে এসে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাউকে ভাগ্য বদলাতে দেওয়া যাবে না। দলের দুঃসময়ের পরীক্ষিত কর্মীদের পেছনে রেখে আশ্রয়ী, লোভী, ষড়যন্ত্রকারীদের দলে আর সুযোগ নেই।

অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর, এ বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার স্ব-প্রণোদিত হয়ে দুর্নীতি উদঘাটন করে এবং আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করে আসছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে ত্রাণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যখাতসহ যেখানেই অনিয়ম দুর্নীতি সেখানেই কঠোর অবস্থানে সরকার।

কোনো ঘটনা ঘটলে সেবিষয়ে কথা বলার বা দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করতে এধরণের বার্তা দিয়ে থাকেন রাজনৈতিক নেতারা। জনগণ ওইসময়ে অনেকটাই মেনে নেন তাদের কথা, কারণ রাজনীতিবিদদের প্রতি জনগণের ভরসা এখনও শেষ হয়ে যায় নি। তবে কিছুদিন পরে আবারও একই ধরণের ঘটনা বা অন্যকিছু হলে জনগণ হতাশ হয়। তাদের সেই হতাশা প্রকাশ পায় দৈনন্দিন জীবনের আলাপচারিতা থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে। সারাবিশ্বের মতো দেশও এখন করোনার কারণে নানামুখি সমস্যায় পড়েছে, কাজেই শুধু আশ্বাস বা কথার ফুলঝুড়িতে সমস্যা দূর হবে না। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে চলা দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ও অ্যাকশনের পরে জনমনে যে আশার সঞ্চার করেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে আমরা মনে করি। দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশকে সঠিক পথে রাখা এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন: