চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বইমেলা থেকে শ্রাবণ প্রকাশনীকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হোক

একুশের বইমেলায় আগামী দুই বছরের জন্য শ্রাবণ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করেছে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। এমন সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান জানিয়েছেন, গত বছর বইমেলায় ধর্মীয় বিষয়ে অশ্লীল বই প্রকাশের কারণে বদ্বীপ প্রকাশনীকে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে বইটির লেখক-প্রকাশককে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেসময় প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন শ্রাবণ প্রকাশনীর কর্ণধার রবীন আহসান। সেজন্যই শ্রাবণকে বইমেলায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবীন আহসানের বক্তব্য, আমি বাংলা একাডেমির বিরুদ্ধে যাইনি। আইন অনুযায়ী তারা কোনো বই নিষিদ্ধ করে তা জব্দ করতে পারে। স্টলও বাতিল করতে পারে। কিন্তু একজন বৃদ্ধ প্রকাশককে বইমেলা থেকে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। আমি মনে করেছি এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত, তাই প্রতিবাদ করেছি। শ্রাবণকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা সমালোচনার পাশাপাশি মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। এমন ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তারা বলছেন, একজন প্রকাশককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বাংলা একাডেমির এমন সিদ্ধান্ত হটকারী ও স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের প্রকাশ। আমরাও মনে করি, কোনো একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করা মানেই সেই প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করা বোঝায় না। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ বা সমালোচনা করতেই পারে। সেই অধিকারও তার আছে। কিন্ত তার বিরুদ্ধে বাংলা একাডেমির মতো উদার এবং সহনশীল প্রতিষ্ঠানের কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিৎ নয়। কেউ যদি সত্যিই ‘বিরোধিতা’ করে থাকে, তার জবাব দেয়ার অধিকার বাংলা একাডেমিরও আছে। তবে এজন্য অভিযুক্তকে কারণ দর্শনো বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। তাই বলে মহান ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত দেশের সবচেয়ে বড় আয়োজনে শ্রাবণের মতো একটি প্রগতিশীল প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা চাই দ্রুত সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করা হোক। এতে বাংলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান বিতর্কের উর্ধ্বে থাকবে।

Bellow Post-Green View