চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বন্ধ হওয়া সিনেমা হল পুনরায় চালু করতে চাইলে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনলাইনে ফ্রিল্যান্সাররা ভালো আয় করছেন। কিন্তু সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই পেশার স্বীকৃতি না থাকায় তাদের বিয়ে করতে সমস্যা হয়।

তাই ফ্রিল্যান্সারদের কীভাবে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তা করতে এ খাতের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

সভায় ৭৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ১১টি উপজেলায় এসব ট্রেনিং সেন্টার হবে। সরকারি অর্থায়নে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এ প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ফ্রিল্যান্সারদের বিয়ের সমস্যা ও তাদের পেশার স্বীকৃতির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই প্রকল্পের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আইসিটি খাতে সরকার ইতোমধ্যে ভালো কাজ করেছে। ভালো আয়ও হচ্ছে। বাসায় বসে বসে অনেকেই লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। আজকে একজন মন্ত্রী বললেন, উত্তরবঙ্গের এক ছেলে কোটি টাকা আয় করে।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ইন্টারেস্টিং একটা ঘটনা বললেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, ফ্রিল্যান্সার এত ভালো কাজ করে, স্মার্ট, সুন্দর কাপড় পরে, কিন্তু বিয়ে করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়ে। শ্বশুরবাড়ি থেকে জানতে চায়, কী কাজ করো? তারা বলেন, ফ্রিল্যান্সিং করি। তারা না কেরানি, না অফিসার, না পুলিশ। অথচ তারা কেরানি, অফিসারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আয় করে। কিন্তু বিয়ে করতে পারছে না।

এম এ মান্নান বলেন, এই সমস্যা দূর করার জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) উপায় খুঁজছেন। কী করা যায়। সবাইকে বলেছেন, আপনারা চিন্তাভাবনা করেন। তারা এই যে কাজ করছে এর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি কীভাবে দেয়া যায় তার উপায় বের করেন। রেজিস্ট্রেশন পেতে পারে কিনা, সদস্য হতে পারে কিনা বা সার্টিফিকেট কেউ দিতে পারে কিনা। বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড় বন্ধ থাকা সিনেমা হল কেউ পুনরায় চালু করতে চাইলে আর্থিকসহ নীতি সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বন্ধ প্রেক্ষাগৃহ (সিনেমা হল) পুনরায় হল মালিকেরা চালু করতে চাইলে আর্থিক সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তার আগে হল মালিকদের আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আইটি ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্প ছাড়াও আরও ৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয় আজকের একনেক সভায়। এতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৫৭০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ৪৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৮২ কোটি ৬০ লাখ এবং বৈদেশিক উৎস্য থেকে পাওয়া যাবে ১ হাজার ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

বিদেশি অর্থের মধ্যে ৮৮৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ঋণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুদান হিসেবে দেবে ১১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন (তৃতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প ও ‘মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ডিপিসিসির আওতাধীন এলাকায় উপকেন্দ্র নির্মাণ ও পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন এবং স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থার প্রবর্তন’ প্রকল্প; তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প।