চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফ্রান্সে শরণার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৫

ফ্রান্সের ক্যালে শহরে আফগান ও ইরিত্রিয়ান শরণার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৪ জন ইরিত্রিয়ান শরণার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি জানায়: গুলি চালানোর জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সী এক আফগান শরণার্থীকে। খাদ্য সংগ্রহের জন্য দাঁড়ানো শরণার্থীদের লাইনে সে গুলি চালায়।

বিজ্ঞাপন

‘প্রায় ১০০ জন ইরিত্রিয়ান ও প্রায় ৩০ জন আফগান এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গুলি চালানোর পরও সেই সংঘর্ষ প্রায় ২ ঘন্টা স্থায়ী হয়। গুরুতর আহত চারজনের ঘাড়ে, বুকে, পেটে ও মেরুদণ্ডে গুলি লেগেছে’, বলে জানায় এএফপি।

স্থানীয় পুলিশ জানায়: এরপর আবার কিছুক্ষণ পরেই দ্বিতীয়বারের মতো দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে একটি শিল্প এলাকায় সংঘর্ষে জড়ায় ১শ’ ৫০ থেকে ২শ’ জন ইরিত্রিয়ান শরণার্থী। ইরিত্রিয়ানদের হাতে তখন ছিল লোহার রড ও লাঠির মতো অস্ত্র।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: এই সহিংসতা একটি নতুন মাত্রায় চলে গেছে। শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে পাচারের জন্য অভিযুক্ত দলগুলোই সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে।

কয়েক মাসের মধ্যে এটাই ক্যালেতে শরণার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া সবচেয়ে নৃশংস সহিংসতার ঘটনা। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারও উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ফ্রান্সের ক্যালেতে জড়ো হওয়া শত শত শরণার্থী সাগরের প্রণালী পার হয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করে। ক্যালের নিকটবর্তী জাঙ্গল নামের বড় আকারের শিবিরটি ২০১৬ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সহিংসতার শুরুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে সংঘাতের শুরু হয়েছিলো স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে। শহরটির দক্ষিণ প্রান্তের স্থানটিতে বিতরণকৃত খাদ্য সংগ্রহের জন্য লাইনে দাড়িয়েছিলো শরণার্থীরা।

দুপুরের পর জাঙ্গল ক্যাম্পের কাছাকাছি ক্যালের একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীকে সেখানে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে রাতে সংঘর্ষের আর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

শরণার্থীরা এখানে কেন?
২০১৬ সালে ‘জাঙ্গল’ ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হলেও শত শত শরণার্থী যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আশায় এর নিকটবর্তী এলাকাতেই থাকছে। এই শরণার্থীদের অনেকেই তরুণ। স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলোর হিসেবে ক্যালেতে বসবাস করা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮শ’। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের সংখ্যা ৫শ ৫০ থেকে ৬শ’ এর মধ্যে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলোম্ব শরণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন: যুক্তরাজ্যে যেতে চাইলে ক্যালেতে না আসার জন্য। এখান থেকে যুক্তরাজ্যে যেতে তাদের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হতে পারে বলেও জানান তিনি।

শরণার্থী প্রক্রিয়ার সমাধান ত্বরান্বিত করতে চলতি মাসের শুরুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে একটি চুক্তিতে সাক্ষর করেছেন। তখন ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন: ক্যালেতে নতুন কোন শরণার্থী শিবির গড়ে উঠতে দেবে না ফ্রান্স।