চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদসহ দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক বিতাড়িত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এসময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে অবদান রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

প্যারিসের এলিসি প্যালেস ওয়ান প্লানেট সামিটে যোগ দিতে প্যারিস সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ফ্রান্সে প্রেসিডেন্টের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যালেসের বাইরে এসে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বৈঠকে ৫টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পবির্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চেয়ে বলেন, সংকট মোকাবেলায় আপনি কি করছেন এবং আমরা কি করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বড় ধরনের বোঝা এবং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দুযোর্গ। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ৫ দফার কথা পুর্নউল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ দফা বাস্তবায়নের মধ্যেই সমাধান নিহিত।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা দ্বিপাক্ষিক সমাঝোতা হয়েছে। কিন্তু আমরা চাই আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও চাপ অব্যহত থাকুক। এটা না করলে দ্বিপাক্ষিক এ সমঝোতা বাস্তবায়ন করা যাবে না। এ সময় উপস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোহিঙ্গা সংকটের পুরো বিষয়টি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করেন।

বিজ্ঞাপন

মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ বিষয়টি তুলে ধরে সংকট সমাধানে অবদান রাখবেন জানিয়ে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট বলেন, এ সমস্যার যাতে একটা স্থায়ী সমাধান হয়।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, আগামী ১৯ ডিসেম্বর রোহিঙ্গা সংকট সমাধান বিষয়ে মিয়ানমারের ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিনিধি দল আসতে পারে। দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা বাস্তবায়নের কৌশল ঠিক করতে।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে এ ধরনের একটি উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্স প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যে বড় ধরনের হুমকীতে আছে সেটি উল্লেখ করেন।
দুই নেতার আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার ও পারস্পরিক সহযোগিতার কথা উঠে আসে।

দুই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সর্ম্পকের কথা আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোন কোন সেক্টরকে আপনি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন যেখানে ফ্রান্স বিনিয়োগ করতে পারে। জ্বালানী, অবকাঠামো, ঔষধ, তথ্য প্রযুক্তি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভবনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে একটি যৌথ বিনিয়োগ কমিশন করার প্রস্তাব দেন। দুই নেতা যৌথ বিনিয়োগ কমিশন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। তবে সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আলোচনা শেষে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন