চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফ্রান্সের ছবিতে বাংলাদেশি ফাহিমের জীবন সংগ্রাম

বাংলাদেশের ক্ষুদে দাবাড়ু ফাহিমের জীবন-সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটির ট্রেলার প্রকাশ, ফ্রান্সে ছবিটি মুক্তি পাবে ১৬ অক্টোবর…

মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। ইচ্ছা শক্তি, অধ্যাবসায় আর দৃঢ়তা থাকলে মানুষ তার নিজেকে নিয়ে যেতে পারে সাফল্যের চূড়ায়। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশি তরুণ ফাহিম মোহাম্মদ। যাকে এক দশক আগেও বাংলাদেশ থেকে সুদূর ফ্রান্সে গিয়ে অবৈধভাবে পালিয়ে থাকতে হয়েছে, অথচ এক দশকের ব্যবধানে সেই ফ্রান্সেই তার জীবনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র!

২০০০ সালে ডেমরায় জন্ম নেয়া ক্ষুদে দাবাড়ু ফাহিমের জীবনী নিয়ে পিয়ের-ফ্রাঁসোয়া মার্তা-লাভালের ছবির নামও ‘ফাহিম’। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন প্রবাসী আহমেদ আসাদ। আসছে অক্টোবরের ১৬ তারিখে ফ্রান্সে মুক্তি পাবে ছবিটি। শুক্রবার (১৪ জুন) প্রকাশ পেয়েছে ছবির ট্রেলার। যেখানে দেখা যায় ক্ষুদে দাবাড়ু ফাহিমের জীবন সংগ্রাম।

বিজ্ঞাপন

যে বই অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘ফাহিম’

‘ফাহিম লে ফিল্ম’ নামে একটি অফিশিয়াল ওয়েব সাইটে দেখা যায় চলচ্চিত্রটি নিয়ে গল্প সংক্ষেপ। সেখানে ছবিটি সম্পর্কে ধারণা দিতে লেখা হয়, ফাহিম নামের ছেলেটি তার বাবা নূরে আলমের সাথে প্যারিস এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে বাবা-ছেলের ঠাঁই হয় একটি আশ্রয়শিবিরে৷ সেখানে সরকারি মাসোহারা আর টুকটাক কাজকর্ম করে কাটতে থাকে তাদের দিন৷ এর দুই বছর পর তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ‘চূড়ান্তভাবে’ প্রত্যাখ্যাত হলে তাদের ফ্রান্স ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়৷ কিন্তু তারা সেটা না করে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন৷ এরই মধ্যে একটি দাবা টুর্মামেন্টে অংশ নিয়ে এক দাবা প্রশিক্ষকের নজরে পড়ে ফাহিম৷ পাল্টে যেতে থাকে তাদের জীবন।

একদিকে টিকে থাকার সংগ্রাম, অন্যদিকে দাবা খেলা। ঘরোয়া দাবা ছাড়াও ফ্রান্সের হয়ে ইউরোপ জুনিয়র দাবায় চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব জুনিয়র দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সংবাদপত্রের শিরোনামে ঠাঁই করে নেন ফাহিম। তাকে নিয়ে আলোচনা, তর্ক, বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। শেষ পর্যন্ত দাবা খেলেই ফ্রান্সের স্থায়ী নাগরিকত্ব লাভ করেন ফাহিম।

ফাহিমকে নিয়ে শুধু ফ্রান্সের সংবাদ মাধ্যম নয়, ২০১২ সালের দিকে বাংলাদেশের মিডিয়াতেও বেশ আলোচনা হয়। ২০১৪ সালে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত হয় একটি বই। ‘অ্যা ক্ল্যানডেস্টাইন কিং’ নামের বইটি অবলম্বন করেই মূলত নির্মিত হয়েছে ‘ফাহিম’ চলচ্চিত্রটি। দাবা দিয়ে ফ্রান্সের মানুষের মন জয় করার কাহিনী আর ফাহিম ও তার বাবার ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পই উঠে আসবে এই ছবিতে।

আইএমডিবি-তে ফাহিম…

২০১২ সালে ফাহিমকে নিয়ে প্রকাশিত ডয়েচে বেলে’র একটি সংবাদ মারফত জানা যায়, ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে ফাহিমের বাবা নূরে আলম ছেলেকে নিয়ে ফ্রান্সে যান৷ এরপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে, বাবা-ছেলের ঠাঁই হয় একটি আশ্রয়শিবিরে৷ সেখানে সরকারি মাসোহারা আর টুকটাক কাজকর্ম করে কাটতে থাকে তাদের দিন৷ তবে ২০১০ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ‘চূড়ান্তভাবে’ প্রত্যাখ্যাত হলে তাদের ফ্রান্স ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়৷ কিন্তু তারা সেটা না করে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন৷ এরই মধ্যে একটি দাবা টুর্মামেন্টে অংশ নিয়ে এক দাবা প্রশিক্ষকের নজরে পড়ে ফাহিম৷ সেই প্রশিক্ষকের উদ্যোগেই প্যারিসের একটি দাবা ক্লাবে ফাহিমের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়৷ আর থাকার জন্য ফাহিম ও তার বাবা ক্লাব সংলগ্ন খালপাড়ে তাঁবু গেড়ে বসবাস শুরু করে৷

২০১২ সালে ফাহিম…

অবশ্য পরে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং দাবা ফেডারেশনের বদান্যতায় বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে রাতে থাকার ব্যবস্থা হয় ফাহিম ও তার বাবার৷ এরই মধ্যে ২০১২ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-১২ জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতায় ফাহিম চ্যাম্পিয়ন হয়৷ এরপর তাকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিতর্ক শুরু হয়৷ ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া ফিয়ঁ’ও এই বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন যে, ফাহিমের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে৷ এরপর মে মাসে ফাহিম ও তার বাবাকে ফ্রান্সে থাকার সাময়িক অনুমতি দেয়া হয়৷ আর নূরে আলমকে প্যারিসের ক্রিটেই এলাকায় দেয়া হয় একটি চাকরি৷ এরপরের গল্প শুধু সাফল্যের।

ছবিটি নিয়ে শুধু ফ্রান্সের দর্শক নয়, ট্রেলারের প্রকাশের পর বাংলাদেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে সেই খবর। ‘ফাহিম’-এর ট্রেলার শেয়ার করে অনেকেই ছবিটি নিয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেও দেখা গেছে বহু চলচ্চিত্রমোদিকে। এখন শুধু ‘ফাহিম’ মুক্তির অপেক্ষা!
ট্রেলারে ‘ফাহিম’: