চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ফ্যানদের কাছে অনুরোধ, আশা না হারিয়ে আশা নিয়ে বাঁচুন’

পরপর দুটি ভিন্ন ধারার ছবি ‘ছায়াবৃক্ষ’ ও ‘প্রিয় কমলা’ নিয়ে আসছেন ‘ঢালিউড কুইন’ খ্যাত অপু বিশ্বাস…

ঢাকাই ছবির শীর্ষ নায়িকা অপু বিশ্বাস নিজেকে ভাঙছেন। পরপর দুটি ভিন্ন ধারার ছবি ‘ছায়াবৃক্ষ’ ও ‘প্রিয় কমলা’তে নিজেকে অপুর ভিন্ন উপস্থাপন তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে! জনপ্রিয় এ নায়িকার মতে, তিনি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন। মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, গ্ল্যামার দিয়ে নিজেকে যেমন প্রমাণ করেছেন এবার জাত অভিনেত্রী হিসেবে দর্শক অন্য এক অপুকে পাবেন।চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস তার ক্যারিয়ার গ্রাফ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কথা বলেছেন তার ভবিষ্যৎ নিয়েও। সেই আলাপের কিছু অংশ থাকলো এখানে:

‘ছায়াবৃক্ষ’ ও ‘প্রিয় কমলা’ দুটি ভিন্ন স্বাদের ছবিতে কাজ করলেন। ব্যবসায়িক সফলতা নাকি পুরস্কার অর্জন, প্রত্যাশা কী?
‘ছায়াবৃক্ষ’ এবং ‘প্রিয় কমলা’ এ ছবি দুটো আমার ট্র্যাকের একেবারেই বাইরের ঘরানার। খুব মজা পেয়েছি কাজ দুটো করে। বিশেষ করে নতুন কিছু শিখতে পেরেছি। আমার যে আরও অভিনয় শেখার আছে সেটাও বুঝতে পেরেছি। দর্শকরা এমন ভিন্ন অপুকে কখনও পায়নি। যতগুলো সিনেমা করেছি আমার ফ্যান-ফলোয়ার্স বা মিডিয়াকর্মীরাও জানেন প্রায় সব সিনেমাই সুপারহিট। নতুন এ ছবি দুটো ব্যবসা করুক এ প্রত্যাশা শতভাগ আছে। তবে পুরস্কার অর্জন একজন মানুষের কাজের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। পুরস্কার হচ্ছে কাজের স্বীকৃতি। এটাও আমি চাই।

বিজ্ঞাপন

শাহরিয়ার নাজিম জয়ের পরিচালনায় ‘প্রিয় কমলা’য় জুটিবদ্ধ অপু বিশ্বাস ও বাপ্পী

ব্যতিক্রমী ছবিতে কাজের ফলে আপনার কমার্শিয়াল ভ্যালু কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেন?
সবসময় নিজেকে অভিনেত্রী মনে করি। এ দুটি ছবি আমার অভিনয়ের স্পেস। দর্শক দেখবে গ্ল্যামার ছাড়া অপু বিশ্বাস কী করতে পারে! এটা আমার কাছে শুধু চ্যালেঞ্জ। ‘প্রিয় কমলা’তে ডাবিং করার সময় নিজের কাছে নিজেকেই অন্যরকম লেগেছে। অন্ধকার ঘরে সংলাপ দিতে গিয়ে নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলেছি। এটা আমার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা। কারণ, সত্যি কান্না করায় কণ্ঠে সেই ফিলটা চলে আসে।



আপনি কখনও মুটিয়ে যাচ্ছেন, আবার কখনও শুকাচ্ছেন। শারীরিকভাবে স্থির হতে পারছেন না কেন?
অন্যান্য দেশের আর্টিস্টরা বছরে দু-একটা কাজ করেন। কিন্তু আমাদের অনেক বেশি কাজ করতে হয়। এজন্য ফিগারের দিকে সবসময় সঠিক নজড় দেয়া হয়না। মাঝেমধ্যে কিছু ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয় যেগুলো দেখে অনেকেই ভাবে আমি মুটিয়ে যাচ্ছি। আসলে ছবির এঙ্গেলের ব্যাপার থাকে। যে ছবিগুলো থেকে মানুষ ভাবে আমি মুটিয়ে যাচ্ছি সেটা আসলে ঠিক না। তবে এখন আমি অনেক শুকিয়েছি। আমার মা মারা গেছেন কিছুদিন আগে। সেই শোকে একমাস শরীরচর্চাসহ সবকিছু থেকে দূরে ছিলাম। চিন্তা ছিল আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে ভালোবাস দিবসকে কেন্দ্র করে ফিটফাট হয়ে একটি ফটোশুট করেই হাজির হবো। যাতে সবাই দেখে চমকে যান। দেরি হলেও এটি আমি করবো। ইতোমধ্যে প্রতিদিনই শত ব্যস্ততার মধ্যেই দুই ঘণ্টা করে আর্লি মনিংয়ে শরীর চর্চায় সময় দিচ্ছি। এতে করে শারীরিক মানসিক সব ধরনের প্রশান্তিও পাচ্ছি।

আমজাদ হোসেনের মতো নির্মাতার হাত ধরে ‘কাল সকালে’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক আপনার। এরপর গড়পড়তা বহু ছবিতে কাজ করে গেছেন। কাজের আগে পরিচালক নির্বাচনে আপনি সচেতন থাকা কি উচিত ছিলো?
চ্যানেল আই ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘কাল সকালে’ দিয়েই আমজাদ আঙ্কেলের মাধ্যমে প্রথম সিনেমায় কাজ করি। তখন আমি স্কুলে পড়তাম। এরপর সুভাষ দত্ত দাদুর ‘ও আমার ছেলে’ সিনেমাতেও কাজ করেছি। এরপর দুই বছর গ্যাপ দিয়ে নাইন-টেনে লেখাপড়ায় পাঠ চুকিয়ে ‘কোটি টাকার কাবিন’ দিয়েই নায়িকা হিসেবে নিয়মিত পথচলা শুরু হয়। আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত অনেক বড় মাপের নির্মাতা। কিন্তু তখন এতোকিছু বোঝার ক্ষমতা আমার ছিল না। যখন বুঝতে শিখেছি তখন প্রচুর কাজ করেছি। লাস্ট কাজ করেছি ‘ছায়াবৃক্ষ’ ও ‘প্রিয় কমলা’ দুই ছবিতে। দুটো সিনেমাই অনেক ভালো। ছায়াবৃক্ষের যে পরিচালক (বন্ধন বিশ্বাস) সে বিগত দিনে এতো কাজ করেনি, কিন্তু তার পরিচালনায় কাজ করতে গিয়ে দেখলাম ছেলেটা অনেক ভালো কাজ জানে। সিনিয়র জুনিয়র অনেক মেধাবি পরিচালক আছেন। কিন্তু তারা ঠিকভাবে ব্যবহার হন না। আমাদের ডান্স ডিরেক্টর শুটিংয়ে থাকাকালীনই ডান্স বের করে ফেলেন। এটা সারাজীবন ধরে দেখে আসছি। কিন্তু বলিউডে একটা গানে নাচের জন্য কয়েকদিন রিহার্সেলের সময় নেয়া হয়। এজন্য আলাদা বাজেট থাকে। সেদিক থেকে এতো সংকটের মধ্যেও আমাদের পরিচালক থেকে প্রোডাকশন বয়রাও ভালো কাজের চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি মনে করি, আমাদের বিশ্বমানের পরিচালক আছেন কিন্তু তারা সুযোগ পাচ্ছেন না।

একটা সময় শাকিব খানের সঙ্গে আপনি বছরে ১৩-১৪টি করে ছবি করেছেন। এতো এতো ছবি করতেন একঘেয়েমি লাগতো না?
চলচ্চিত্রের মানুষগুলো সবাই এক পরিবার। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এ মানুষগুলো আমাদের কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন। আমরা কাজ করলে তারা পরিবার নিয়ে একটু ভালো থাকবে। এসব মানবিক দিক বিবেচনা করে বেশি কাজ করতে হতো। একসঙ্গে আমার খুব বেশি পরিশ্রম করেছি। ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত আমি আর শাকিব ১২ মাসে ১৪টিও ছবি করেছি। শুধুমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করে আমাদের বেশি কাজ করতে হতো। ভারতে অনেকগুলো প্রদেশ মিলিয়ে একটি দেশ। এক প্রদেশে কাজ না হলে অন্য প্রদেশে গিয়ে টেকনিশিয়ানরা কাজ করতে পারে। কিন্তু আমাদের কোনো প্রদেশ নেই, সিনেমার বিস্তার নেই। তাই ইন্ডিয়ার সঙ্গে আমাদের তুলনা করলে চলবে না। পরিবারের মানুষ হিসেবে আমরা দায়িত্ব বজায় রাখতে গিয়ে এতো কাজ করেছি। মাঝেমধ্যে কাজের মান খারাপ হয়েছে, আবার খুব ভালো মানের কাজ হয়েছে।

ঢালিউডের ‘কিং খান’ শাকিব খান আছেন বহাল তবীয়তে। কিন্তু ‘ঢালিউড কুইন’ তার নামের সুবিচার করতে পারছেন না কেন?
‘ঢালিউড কুইন’ হয়ে থাকতে গেলে ভালো কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। কিন্তু করোনার কারণে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাই এখন প্রধান কাজ। পরিস্থিতি সুন্দর হোক। আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মধ্যে চারবছর ব্যক্তিগত কারণে আমার ছন্দপতন ছিল। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সমস্যা ছিল। হল সংকট দেখা দিয়েছে, ছবি নির্মাণ কমে গেছে। আমার ফ্যানদের কাছে অনুরোধ, তারা আশা না হারিয়ে আশা নিয়েই বাঁচুন। অবশ্যই সবকিছু স্বাভাবিক হলে ঢালিউড কুইন তার নামের সুবিচারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবে।

প্রায় ১০০ ছবিতে কাজ করেছেন। এরমধ্যে আপনার ৭২টি ছবির নায়ক শাকিব খান। এখন নিজে নিজে পথচলা কঠিন লাগে?
তাকে আমি সবসময় শ্রদ্ধা জানাই। আমাকে নিয়ে এতোগুলো ছবি করে সে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমাকে একটা স্থানে পৌঁছে দিয়ে গেছে। তাই পথচলাটা সেই অর্থে আমার কাছে কঠিন না। তবে অন্যান্য আর্টিস্টদের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে গেলে মাঝেমধ্যে তাকে ফিল হয়। কারণ তার সঙ্গে আমার কমিউনিকেশন, আই কেচিং ছিল অন্যরকম। একটা সময় রাগে ক্ষোভে অভিমানে তাকে অনেক বাজে কথা বলেছি। আমিও মানুষ। আমারও হয়তো ভুলত্রুটি হয়েছে।

চ্যানেল আই অনলাইনের বিনোদন রুমে অপু বিশ্বাস ও শাহরিয়ার নাজিম জয়

ইন্ডাস্ট্রির মানুষরা বলাবলি করেন, ভালো কাজের চেয়ে অপু বিশ্বাস এখন টাকাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এটি সত্য?
হ্যাঁ, কথাটা একদমই ঠিক যে কাজের চেয়ে টাকাকে প্রাধান্য দেই। এর নিশ্চয়ই কারণ আছে। আগে শুধু অপুই ছিল। স্বাধীন ছিল। যা খুশি তাই করতে পারতো। কিন্তু আজকে অপুর উপর অনেক দায়িত্ব। একজন মা হিসেবে, পরিবারের প্রধান হিসেবে এবং একজন ব্যক্তি অপু হিসেবে। প্রত্যেক মানুষ পরিশ্রম করে তার পারিশ্রমিকের জন্য। আমি আমার পরিশ্রমকে সম্মান দেই যখন পারিশ্রমিক নেই। হয়তো যারা বলেছে ‘অপু এখন টাকাকে বেশি গুরুত্ব দেয়’ তাদের বলা শব্দগুলো ঠিক আছে কিন্তু তাদের থিংকিংটা ঠিক নেই। অবশ্যই আমি আমার পেশা ও পারিশ্রমিককে শ্রদ্ধা করি।

নায়ক বাপ্পী চৌধুরীর সঙ্গে আপনার প্রেমের গুঞ্জন শোনা যেত। ‘প্রিয় কমলা’তে কাজের পর পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয় পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত করেছেন অপু-বাপ্পীর মধ্যে প্রেমের কোনো ইঙ্গিত তিনি পাননি। এমনকি ভালো বন্ধুত্বও নেই। আছে শুধু প্রফেশনাল সম্পর্ক। কিছুটা জেলাসি আছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। আপনাদের সম্পর্কের অবস্থান কী?
জয় ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। অন্তত তিনি এটা বুঝেছেন। শুরু থেকে বাপ্পীর সঙ্গে আমার কিছুই ছিল না। যারা ভেবেছিল কিছু আছে, তারা আসলে ভুল ভেবেছিল। আমি এটা সময়ের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। জানতাম, সময় হলে মানুষ একদিন সত্যটা বুঝবে। অনেকেই বাপ্পীর সঙ্গে প্রেম বিয়ে নিয়ে আমাকে ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছিল। আমিও হাসিমুখে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম। আসলে প্রত্যেকটা মানুষের আমার সম্পর্কে আরও ভালো করে জানা উচিত। ভুল ভাঙানোটা আমার কাজ না, জানানোটা আমার কাজ।