চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফেসবুক এখন মত প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম

জাফর ইকবাল স্যার বছরের প্রথম দিন কলাম লিখেছেন। সেখানে তিনি নতুন বছরে ১০টি চাওয়া-পাওয়ার কথা লিখেছেন। এর মাঝে বর্তমান প্রজন্মকে ফেসবুক থেকে মোহমুক্তির কথা বলেছেন। প্রিয় স্যার, অসম্ভব প্রিয় একজন মানুষ আপনি আপনাদের। আমি আপনার ছাত্রও বটে। আমরা এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা আপনার কাছ থেকে কতো কিছুই না শিখছি। আমি অবশ্যই আপনার এই কলামের উত্তর পত্রিকায় কলাম লিখেই জানান দিবো। কিন্তু ফেসবুকে কিছু না লিখলে নিজের কাছেই নিজে দায়বদ্ধ থেকে যাচ্ছি।

আপনি এর আগেও আমাদের লাইক গোনা প্রজন্ম বলেছিলেন। এটিও আসলে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আপনার নিশ্চয় মনে আছে গত বছর আপনি একবার নিজের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত যেন আপনি সত্যি সত্যি নিয়ে ফেলতে না পারেন, এর জন্য কিন্তু এই আমরাই ফেসবুকে কলম ধরেছিলাম। আমি নিজে তিন তিনটি জাতীয় পত্রিকায় কলাম লিখেছি। কিন্তু আপনাকে হলফ করে বলতে পারি, পত্রিকায় কলাম লিখে নয়, বরং ফেসবুকে ঝড় তুলেই হয়তো সেই ঝড়কে সামাল দেয়া গেছে। গত বছর এই আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষকদের উপর ছাত্ররা হামলে পড়েছিলো, তখন এই আমরাই কিন্তু ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। আপনি হয়তো বলতে পারেন, ফেসবুক যখন ছিল না, তখন কি লোকে প্রতিবাদ করতো না? পত্রপত্রিকা গণমাধ্যম তো রয়েছেই।

বিজ্ঞাপন

এর উত্তর আমি আপনাকে এক্ষুণি দিয়ে দিচ্ছি। আপনারা ৪৪ বছর ধরে এই স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চেষ্টা করেছেন। তখনো পত্রপত্রিকা গণমাধ্যম ছিলো। কিন্তু না, আপনারা একটি ন্যায্য বিচারও করতে পারেননি। যখন বিচার শুরু হলো এবং একটি অন্যায্য রায় হলো ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন; তখনো আপনাদের প্রজন্ম ঘরেই বসেছিলো। এই আমাদের প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা কিন্তু ওই রায় মেনে না নিয়ে রাস্তায় নেমে এসছিলো। বাকী ইতিহাস আপনার জানা। কারণ শাহবাগে দাঁড়িয়ে আপনিই আপনার কথা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ফেসবুকে লাইক গুণে যদি যুদ্ধাপরাধীদের মতো ঘৃণ্য মানুষদের বিচার হয়, তাহলে আমরা বর্তমান প্রজন্ম সেটাই করে যাবো।

আপনি মোহমুক্তির কথা বলেছেন। অবশ্যই যে কোনো কিছুর মাত্রাতিরিক্ত মোহ ভালো না। কিন্তু ফেসবুকে কি খারাপ ছাড়া ভালো কিছু হচ্ছে না? যেই প্রবাসী শ্রমিক ভাই মাস দুয়েক আগে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়ে ফেসবুকে সাহায্য চেয়েছিলো এবং স্বয়ং মন্ত্রী সেই পোষ্ট দেখে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন, সেটি কি আদৌ সম্ভব হতো ফেসবুক না থাকলে? প্রিয় স্যার, অবশ্যই আপনার সাথে আমার হয়তো কালই কথা হবে এই নিয়ে কিংবা পরশু। কিন্তু ফেসবুকে থাকা আমার অগণিত বন্ধু এবং পাঠকদের জন্যও কিছু লেখার দায় আমি অনুভব করেছি। এই মানুষগুলোর অনেকেই হয়তো পত্রিকায় লেখা আমার কলাম পড়ে না, কিন্তু ফেসবুকের স্ট্যাটাসটা ঠিকই তারা পড়ে নেয়। প্রশ্নটা আসলে এখানেই। ফেসবুক আর কিছুই না একটা প্লাটফর্ম। কে কিভাবে এটিকে ব্যাবহার করবে, এটি তাদের নিজেদের উপরই নির্ভর করছে। যে কোনো ভালো লেখা যেমন বই প্রকাশ করে কিংবা পত্রিকায় লিখে জানান দেয়া সম্ভব, ঠিক তেমনি ফেসবুকেও সেটি সম্ভব। আবার খারাপ বইও যে প্রকাশ হয় না, তাও তো না। এই যে এতো ইতিহাস বিকৃতি, সেটি কই থেকে আসলো? আপনাদের প্রজন্মের হাতে তো ফেসবুক ছিল না। তাহলে সেটি কিভাবে সম্ভব হলো? কারণ কিন্তু ওই বই! অর্থাৎ ইতিহাস বিকৃতির বই।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন