চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে অপহরণ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ছেলেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করত সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের এক নারী সদস্য। সম্পর্কের একমাসের মধ্যেই প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব, এরপর দেখা করার ফাঁদে ফেলে প্রেমিককে অপহরণ করে দাবি করা হয় মুক্তিপণ।

সুন্দরী মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করতেন কাজল বেগম (২৬)। তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। মো. রায়হান (২৪) নামে এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে এই চক্র। এরপর র‌্যাবের হাতে চক্রের ৫ সদস্যকে আটকের পর বেরিয়ে আসে আসল তথ্য।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দিনগত রাতে সাভারের আমিন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত প্রেমিকা কাজলসহ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-৪।

আটক অন্যরা হলেন- আজিজুল হাকিম (৪০), লিটন মোল্লা (২৬), নজরুল ইসলাম বাবু (৪২), নুরু মিয়া ওরেফে মোল্লা (৬২)। এ সময় উদ্ধার করা হয় অপহৃত রায়হানকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি বলেন, রাজধানীর কলাবাগান থেকে গত ১২ এপ্রিল রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে অপহরহণকারীরা মো. রায়হানকে (২৪) অপহরণ করে সাভারের আমিন বাজারে নিয়ে আটকে রাখে। ছয় দিন রায়হানকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর পরিবারের সাথে আলোচনা ৫ লাখ টাকায় মুক্তিপণ রফাদফা হয়।

বিজ্ঞাপন

রায়হানের পরিবার চক্রের সদস্য বাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিরপুরের ৬০ ফিট ভাঙা ব্রিজের কাছে সিগারেটের বক্সের ভেতর করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসে। বাকি ৪ লাখ টাকা না দিলে রায়হানকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় চক্রটি। পরে র‌্যাবের কাছে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চক্রের ৫ সদস্য আটকসহ উদ্ধার করা হয় রায়হানকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীরা জানায়, তারা দশ বছর ধরে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও চাকুরীজীবী এবং তাদের পরিবারের সদস্যকে টার্গেট করে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে।

র‌্যাব-৪ প্রধান আরো বলেন, আটক নুরু মিয়া ওরফে মোল্লা (৬২) ও কাজল বেগম (২৬) বাবা-মেয়ের পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। ভাড়া বাসাতেই তারা অপহরণ করে নিয়ে এসে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টের পাওয়ার ভয়ে এক মাস কিংবা দুই মাস পর পর তারা বাসা পরিবর্তন করে ফেলে।

মঞ্জুরুল কবির বলেন, সাধারণত লোকলজ্জার ভয়ে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা এসব বিষয়ে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসে না। অনেকেই লাখ লাখ টাকা খোয়া দিয়েও ভয়ে কিংবা মান সম্মানের জন্য কাউকে জানায় না।

অপহরণকারী চক্রের কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকাসহ আশপাশের বাস স্টেশন থেকে যাত্রীদের চাহিদা মতস্থানে যাওয়ার কথা বলে মাইক্রো বা প্রাইভেটকারে উঠায়। এরপর গাড়ীতে যাত্রীবেশে পূর্ব  হতে অবস্থানকৃত ৩/৪ জন  ব্যক্তি গাড়ী চলা অবস্থায় ভিকটিমকে অজ্ঞান   করে।  কখনো হাত-পা   ও   মুখ   বেঁধে  তাদেরকে পরিকল্পিত   এলাকায়   নিয়ে   আসে   এবং ভিকটিমকে   আটকে রেখে   শারীরিক   ও  মানসিক   অত্যাচার  করে  ভিকটিমে পরিবার-পরিজনদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে।

কখনো সুন্দরী মেয়ের ছবি দিয়ে ফেসবুকে ফেইক আইডি’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও চাকুরীজীবিদেরকে টার্গেট করে তার সাথে বন্ধুত্বের মাধ্যমে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের সাথে দেখা করার কথা বলে অপহরণ করে।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

Bellow Post-Green View