চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফেসঅ্যাপে বুড়ো হওয়া কতটা ভয়ংকর

মানুষ ফেসঅ্যাপ এর মাধ্যমে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ৬৫-৭০ বছর বয়সে তাদের চেহারা দেখতে কেমন হবে তা দেখতে পাচ্ছে।

এই অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের সুন্দর চেহারা বুড়ো বানিয়ে ফেসবুকে দিচ্ছে তারা।  এটি জ্যোতিষী বিদ্যা থেকে কোনো অংশেই কম নয়। কেননা জ্যোতিষীরা যেমন কৌশলের আশ্রয় করে আপনার আমার মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করে থাকে, তেমনি এই অ্যাপটিও যান্ত্রিক কৌশলের আশ্রয় নিয়ে আপনার আমার ভবিষ্যত রূপ প্রদর্শন করছে।

বিজ্ঞাপন

এক সদ্য বিবাহিত পরিচিত বড় ভাই নিজে বুড়ো হয়ে তার স্ত্রীকে বুড়ো বানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন,

‘আমার বেঁচে থাকার প্রার্থনাতে

বৃদ্ধ হতে চাই তোমার সাথে’।

আবেগের বশবর্তী হয়ে এরকম অনেকেই অনেক কিছু লিখেছেন। কিন্তু, আপনি কি আসলে জানেন ভবিষ্যতে আপনার চেহারাটি দেখতে কেমন হবে? আপনি-আমি যে ৬৫ কিংবা ৭৫ বছর বয়স হলে যে মারা যাবো না তার গ্যারান্টি কে দিয়েছে আমাদের?

আল্লাহ তায়ালা এ বিষয়ে পবিত্র আল কোরআনে বলেছেন: “নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে তারা তা লিপিবদ্ধ করছে”। [আল কোরআন, সূরা তূর, আয়াত:৪১]

এই আয়াত থেকে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে, একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন যে  আপনার আমার বর্তমান চেহারার আকৃতি আগামীকাল বা অদূর ভবিষ্যতে কেমন হবে, আপনি আমি বুড়ো হয়ে মারা যাবো নাকি যুবক অবস্থায় মারা যাবো– আল্লাহই ভালো জানেন। তাই নয় কি?

পবিত্র কোরআনের আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: “তাদেরকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে অবশ্যই বহু প্রলোভন দেব, ফলে তারা জন্তু-জানোয়ারের কান ছেদন করবে, আমি তাদেরকে অবশ্যই নির্দেশ দেব, ফলে তারা সৃষ্টিকে বিকৃত করবে। আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে কেউ শয়তানকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, সে সুস্পষ্টত ক্ষতিগ্রস্ত”।[আল কোরআন, সূরা নিসা, আয়াত: ১১৯]

আরো অনেককিছু বলার আছে এ বিষয়ে।

ফোর্বসের তথ্যমতে, এখন বিশ্বের ১৫ কোটিরও বেশি মানুষের ছবি ফেসঅ্যাপের দখলে।  আর আমরা নিজেরাই এসব ছবি তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।  ভার্চুয়াল জগতে যে কোনো উদ্দেশ্যে তাদেরকে এসব ছবি ব্যবহারের অনুমতিও দিয়ে রেখেছি।

বিজ্ঞাপন

এমনকি নিয়ম বহির্ভূতভাবেই ব্যবহারকারীর যে কোনো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে জনপ্রিয় এই ফেসঅ্যাপ।  এর মাধ্যমে আপনি ফেসঅ্যাপকে যে কোনো উদ্দেশ্যে আপানার ছবি এবং নাম ব্যবহারের ক্ষমতাও দিয়ে ফেলছেন!

ফোনএরিনা’র বিখ্যাত লেখক পিটার কস্তাদিনোভের মতে, ব্যবহারকারীই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এসব ভবিষ্যৎ ব্যবহার বা অপব্যবহারের বিষয়গুলো তার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ কি?

যদি দুশ্চিন্তার হয় তবে ফেসঅ্যাপকে ছবি দিবেন না। আর এটি যদি না হয় তবে নিশ্চিন্তে ফেসঅ্যাপের মাধ্যমে ফেসবুকে ছবি আপলোড করুন আর নিজের চেহারা বিকৃত করে মজা নিতে থাকুন।

মানুষ ফেসঅ্যাপে বুড়ো হওয়া ছবি নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছে, কেউ কেউ মজা নিচ্ছে। এর মধ্যেই আপনি আমি দেখব আমাদের মৃত্যু চলে আসছে। তখন সে গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টির কি হবে? ভবিষ্যত সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

ফেসবুক-ফেসঅ্যাপ-অ্যাপ-বুড়োপবিত্র কোরআনের অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, “আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সন্দরতম অবয়বে”।[আল কোরআন, সূরা ত্বীন, আয়াত:৪]

একটা কথা সর্বজ্ঞাত তা হল জ্ঞানীদের জন্য ইশারা যথেষ্ট। কিন্তু ইট’স আপ টু ইউ। মানে আপনি এখন থেকে ফেসঅ্যাপে ছবি এডিট করে ফেসবুকে ছবি দিবেন কি দিবেন না সেটা আপনার সিদ্ধান্ত।

আরেকটি বিষয় না বললেই নয়। সেটি হল এই অ্যাপের মাধ্যমে আমাদেরকে মৃত্যুর স্মরণ থেকে উদাসীন করার এক ধরনের চর্চা চলছে। আর মানুষ যে মৃত্যুকে ভুলে বসেছে বা মৃত্যু থেকে উদাসীন হচ্ছে এটি তার স্পষ্ট প্রমাণ নয় কি?

মহান আল্লাহ অপর আয়াতে বলেন:.”যারা আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জিন্দেগীকে বেশি ভালবাসে, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখে আর তাতে বক্রতা আনার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে; এরা গোমরাহীতে বহু দূরে চলে গেছে।” [আল কোরআন, সূরা ইব্রাহীম, আয়াত : ৩]

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “বলুন, আসমান এবং যমীনে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না (এক) আল্লাহ ছাড়া”। [সূরাহ নামল, আয়াত : ৬৫]

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট জানা যায়, ভবিষ্যতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে। সুতরাং, এটি পড়েও যদি আমরা সতর্ক  না হতে পারি তবে বললে মনে হয় ভুল হবে না, আমাদের অবস্থা ‘চোখ থাকিতে অন্ধ’।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View