চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফারাসান দ্বীপের গভর্নরের সাথে রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারীর বৈঠক

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী দেশটির ফারাসান দ্বীপের গভর্নর হাসান বিন হোসাইন আল-হাজিমির সাথে বৈঠক করেছেন।

বৃহস্পতিবার সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ফারাসান দ্বীপের গভর্নরের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সেখানে গভর্নর তার কার্যালয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী প্রথম বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত যিনি ফারাসান দ্বীপ পরিদর্শনে এসেছেন। এটি এ দ্বীপবাসীর জন্য একটি অত্যন্ত আনন্দের দিন। এ সময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকার, সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং এদেশে বসবাসরত ২৩ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ হতে গভর্নরকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এর আওতায় পর্যটনের বিষয় উল্লেখ করে ফারাসান দ্বীপের সমুদ্র এবং প্রাকৃতিক নিদর্শন ও সৌন্দর্য্য এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশেও সেন্টমার্টিনসহ এরূপ বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে মর্মে উল্লেখ করে দু’দেশের পর্যটন কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারষ্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটক বিনিময়ের প্রস্তাব করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সৌদি আরবে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগে আগ্রহের বিষয়টি গভর্নর অবহিত করেন। অনুরূপভাবে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদেরকে ও বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুরোধ জানান।

ফারাসান দ্বীপের গভর্নর এ সময় সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এর উল্লেখ করে এর অর্জনে এখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে তিনি তার পক্ষ হতে ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রদূত ইয়েমেন থেকে হুতি মিলিশিয়া কর্তৃক এ অঞ্চলে বারবার আক্রমণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সৌদি আরবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

গভর্নর জানান, ফারাসান দ্বীপ এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত একটি অনন্য সুন্দর দ্বীপ। এ অঞ্চলে ছোট বড় ২০০টির অধিক দ্বীপ রয়েছে যার মধ্যে তিনটি দ্বীপে মানুষ বসবাস করে। এ দ্বীপে প্রায় ৯০০০ বছর পূর্বে মানুষের বসবাস শুরু হয়। আফ্রিকার পাশে এবং লোহিত সাগরে অবস্থিত হওয়ায় ভারত এবং দূরপ্রাচ্যের সাথে আফ্রিকা ও আরব অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে এ দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ দ্বীপটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জানা যায়, রোমান সময় থেকেই এটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত। এটি মতি, আকিকসহ অন্যান্য মূল্যবান রত্ন ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। গভর্নর আরও জানান, প্রায় ১৪০০ বর্গ কি.মি দীর্ঘ এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

বৈঠক শেষে দু’টি ভাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দীর্ঘকালের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক উন্নতি উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ফারাসান দ্বীপ ছাড়ার আগে রাষ্ট্রদূত সেখানকার কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষের সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল এস এম আনিসুল হক ও রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকনমিক কাউন্সেলর মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান উপস্থিত ছিলেন।