চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফারমার্স ব্যাংকে রাখা আমানত ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিদ্যুৎ বোর্ড

নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসাবে ৪৭ কোটি টাকা রেখে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবি)। আমানতের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় পর পর দুই বার অর্থ চেয়েও তা ফেরত পায়নি বিউবি। অর্থ উদ্ধারে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

তবে ফারমার্স ব্যাংক বলছে, আমানতটি পুন:নবায়নের জন্য বিউবির সাথে আলোচনা চলছে। এছাড়া ব্যাংকের পূনর্গঠনের কাজ প্রায় শেষ। অচিরেই ব্যাংকে প্রচুর মূলধন আসবে। পর্যায়ক্রমে সবার দেনা-পাওনা মিটমাট করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বিউবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখায় দুটি হিসাবের মাধ্যমে ২৬ কোটি টাকা ও ইমামগঞ্জ শাখায় তিনটি হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ২১ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থাৎ মোট ৪৭ কোটি ৫ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে রেখেছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবি)। ২০১৮ সালে সুদে-আসলে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা দুটিতে যোগাযোগ করা হলে নগদ টাকা না থাকায় অর্থ ফেরত দিতে পারবে না বলে জানায় ফারমার্স ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এরপর লিখিতভাবে অর্থ চেয়ে পর পর দুইবার চিঠি পাঠায় বিউবি। কিন্তু ফারমার্স ব্যাংক টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে।

জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে বিউবির তেল ক্রয়, ইসিএ ঋণ পূন:পরিশোধ, আইপিপি, রেন্টালসহ বিভন্ন বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় ওই আমানতের অর্থ নগদায়নের জন্য অনুরোধ করা হয় ফারমার্স ব্যাংককে। কিন্তু বার বার তাগিদ দেয়ার পরও অর্থ ফেরত দিতে পারেনি ব্যাংকটি। নগদ অর্থ না থাকায় এই মূহূর্তে অর্থ ফেরত তিদে পারবে না বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়। নিরুপায় হয়ে অর্থ উদ্ধারে বিউবি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে।

এর আগে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা রাখা ৫০৮ কোটি টাকা দিতে না পারায় তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটে পড়া ফারমার্স ব্যাংক ২০১৭ সালে ৫৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। বছর শেষে ব্যাংকটির আমানত কমে হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকটির ঋণ ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

ফারমার্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ২০১৩ সালের ৩ জুনে মোট ৩৯ জন ব্যক্তি উদ্যোক্তা ও ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে ৪০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা করে ব্যাংকটি। এর ৪ বছর পর ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে সংকটে পড়ে ব্যাংকটি।

জানতে চাইলে বিউবির নিয়ন্ত্রক (অর্থ) মিজানুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ফারমার্স ব্যাংক থেকে আমানতের অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত না পেয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে একটা চিঠি দিয়ে সহায়তা চেয়েছি। দেখা যাক কী হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। এরপর পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আমাদের বোর্ডে বসে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এই আমানতটা পূন:নবায়নের জন্য বিউবিতে পাঠানো হচ্ছে। আর এই ব্যাংক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান। এই কাজ সম্পন্ন হলে ব্যাংকে অনেক অর্থ আসবে। তখন সবার অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত পরিশোধ করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংকে নগদ অর্থের কিছুটা সংকট ছিল। এই সংকট দূর করতে কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে মূলধন পাওয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। সবার সহযোগিতায় শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কারণ ইতিমধ্যে ফারমার্স ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশীষ চক্রবর্তী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, হয়তো চেক ডিসওনার (প্রত্যাখ্যাত) হচ্ছে। আসলে একেবারে গ্রাউন্ড লেভেলের তথ্য দেয়াও মুশকিল। বিষয়টি আমি পুরোপুরি জানি না।