চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মৃত্যুর আগে স্বপ্নগুলোর কথা লিখে রেখে গেছেন ফাতিমা

পাকিস্তানের তারকা রাঁধুনি ‘টপ শেফ’ জয়ী ফাতিমা আলি ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার ক্যানসারে ভুগে মারা গেছেন। মাত্র ২৯ বয়সে পৃথিবী ছেড়েছেন তিনি। তবে মৃত্যুর আগে তিনি জীবন, খাবারের প্রতি ভালোবাসা এবং ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবনের শেষ কয়েকটি মাসের অভিজ্ঞতা লিখে রেখে গেছেন। লেখাটি ‘বন এপিটাইট’ ম্যাগাজিনের মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।

পাকিস্তানের রান্নাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন ফাতিমা। জনপ্রিয় টিভি শো ‘টপ শেফ’সহ বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় সেরা শেফ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে তিনি আক্রান্ত হন সারকোমা নামে হাড়ের একধরনের ক্যানসারে। চিকিৎসকরা তাকে মাত্র এক বছর সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

লেখার শুরুতে ফাতিমা ছোটবেলার কিছু প্রিয় মুহূর্তের কথা জানিয়েছেন। তখন থেকেই রান্নাবান্নার শখ ছিল তার। কিন্তু সেই সময়ে অভাব ছিল, অনেক ঋণও ছিল। এরপর নানা ধাপ পার হয়ে আমেরিকার নিউইয়র্কের ‘ইন্সটিটিউট অব কালিনারি এডুকেশন’ থেকে গ্রাজুয়েশন করার সুযোগ হয়ে তার। তখন নিউইয়র্কের বেশ কিছু রেস্তোরাঁয় জুনিয়র শেফ এবং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার দিনগুলোর কথা লিখেছেন ফাতিমা।

এরপর ধীরে ধীরে লেখায় উঠে আসে ক্যানসারের সঙ্গে তার যুদ্ধের দিনগুলোর কথা। কেমো থেরাপি প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘প্রথম কেমো সাইকেল শেষ হওয়ার আগে আঘাতটা বোঝা যায়না ঠিকমতো। এরপর চুল পড়তে শুরু করে। তারপর বোঝা যায়, এটাই হওয়ার ছিল এবং বাকি জীবন এভাবেই থাকতে হবে। আমাকে আট রাউন্ড কেমো দেয়া হয়েছে। খুবই ভয়ানক ছিল, তবে আমার ক্যানসার ভালোর পথে ছিল। ভেবেছিলাম ক্যানসারকে হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এরপর সেটা আবার ফিরে আসে, আগের চাইতে আরও খারাপ ভাবে। আমার ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, আমার আর এক বছর সময় আছে বেঁচে থাকার জন্য।’

ঠিক সেই মুহূর্তে ফাতিমা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, ক্যানসারের জন্য তিনি নিজের বেঁচে থাকার শেষ সময়গুলোকে নষ্ট করবেন না। তিনি লিখেছেন, ‘নিজের জন্য দুঃখ করা ছেড়ে দিয়েছিলাম। নিউইয়র্ক এবং লস এঞ্জেলসের এর হাসপাতালে যখন ছিলাম, তখন অনেক বয়সের, অনেক ধরণের রোগী দেখেছি। তখন মনে হয়েছে, আমার অবস্থা আরও খারাপও হতে পারতো। আমি ভাগ্যবান যে এখনও প্রিয় কাজগুলো করার সামর্থ্য আমার আছে।’

এরপর নিজের স্বপ্ন পূরণ করা শুরু করেন তিনি। বিছানায় পড়ে না থেকে ছুটি কাটাতে এবং নিজের প্রিয় খাবারগুলো খেতে বের হয়ে যান ফাতিমা। সেই সঙ্গে এক্সপেরিমেন্টাল রান্না এবং লেখালেখি চালিয়ে যান। ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিদিন একটি করে নতুন রেসিপি লিখেছেন নোটবুকে। রান্না নিয়ে আরও যত স্বপ্ন ছিল, সেগুলোর কথা লিখে রেখে গেছেন তিনি।

জীবনটাকে পুরোপুরি উপভোগ করতে চেয়েছিলেন ফাতিমা। তবুও খুব ভয় ছিল মনে। ‘এমনও দিন গেছে খুব ভয় পেতাম, একা বসে কাঁদতাম। পরিবারকে বুঝতে দিতাম না। আবার পরিবারের সবাই বসেও কাঁদতাম মাঝে মাঝে,’ মৃত্যুর ভয় পাওয়া দিনগুলোর কথা এভাবেই লিখে গেছেন ফাতিমা। ইটিঅনলাইন