চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফরীদিকে ভুলে যাওয়া সহজ নয়

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র। অভিনয়ের এরকম সব মাধ্যমে সমান তালে দাপিয়ে বেড়ানো অভিনেতার সংখ্যা হাতে গোনা। আর সব মাধ্যমে ‘স্টারডম’ নিয়ে পথচলা এরকম অভিনেতার সংখ্যা বিরল! আর সেই বিরলতম ও বৈচিত্রময় অভিনেতাদের একজন হুমায়ুন ফরীদি!

টানা তিন দশক অভিনয় করে গেছেন এই ক্ষণজন্মা। অভিনয়ের মাধ্যমে আমৃত্যু ছড়িয়েছেন জীবনের বর্ণীল আলো। ১৯৫২ সালের ২৯ মে জন্ম নেয়া এই সুঅভিনেতার ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শারীরিক মৃত্যু হয়েছে বটে, কিন্তু কর্মের মধ্য দিয়ে এখনও তিনি উপস্থিত। তিনি আছেন, খুব গভীর ভাবেই মানুষের মনে!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এখনও তার অভিনীত পুরনো নাটক সিনেমা দেখে লোকে উদ্বেলিত হয়। উচ্ছ্বিসত হয়। শুধু জন্ম কিংবা মৃত্যুদিনে নয়, সারা বছরেই তিনি আলোচিত। তার অভিনয় জীবনের শুরু ছাত্রজীবনে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে সাত আসমানের সিঁড়ি, একদিন হঠাৎ, চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ, অযাত্রা, পাথর সময়, দুই ভাই, শীতের পাখি, সংশপ্তক, কোথাও কেউ নেই, নীল আকাশের সন্ধানে, দূরবীন দিয়ে দেখুন, ভাঙনের শব্দ শুনি, বকুলপুর কতদূর, মহুয়ার মন, সমুদ্রে গাঙচিল, তিনি একজন, চন্দ্রগ্রস্ত, কাছের মানুষ, মোহনা, বিষকাঁটা, শৃঙ্খল, ভবের হাট প্রভৃতি ।

প্রথম মঞ্চনাটক কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটকে ১৯৬৪ সালে। মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা দেন স্কুল জীবনে, নাম ‘ভূত’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’ প্রভৃতি। টিভি নাটক অথবা মঞ্চে সেলিম আল দীন এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু জুটির বাইরে হুমায়ুন ফরীদির সর্বাধিক সংখ্যক এবং সর্বাধিক সফল কাজ ছিল হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। আর ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিকে তার অভিনীত চরিত্র কানকাটা রমজানের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয় তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’। প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছে দহন, ভণ্ড, ব্যাচেলর, জয়যাত্রা, শ্যামলছায়া, একাত্তরের যীশু, মায়ের মর্যাদা, বিশ্বপ্রেমিক ও পালাবি কোথায়। বাংলা চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে তিনি যোগ করেছিলেন এক নতুন মাত্রা। ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে খলনায়ক চরিত্র শুরু হয় তার। তিনি ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৪ সালে। নিয়মিত টিভি অভিনয়ের পাশাপাশি হুমায়ুন ফরীদি তেমন একটা লিখতেন না। তবে কিছু টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণ করেছেন।

দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এবং রোমান্টিক এ মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে বেলি ফুলের মালা দিয়ে ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন। তখন এ বিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। এ ঘরে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নাম দেবযানি।

পরে তিনি ঘর বাঁধেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে। কিন্তু ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে ব্যক্তিজীবন ছাপিয়ে হুমায়ুন ফরীদি সবার প্রিয় অভিনেতা হিসাবে এখনও আবিষ্ট করে রেখেছেন অগুনতি দর্শক-সমালোচকদের।

শারীরিকভাবে তিনি নেই। কিন্তু তাকে নিয়ে ভক্ত অনুরাগীদের উন্মাদনা এখনও চোখে পড়ার মতো। শুধু ভক্ত অনুরাগীই নয়, তার সহকর্মী থেকে শুরু করে এই সময়ের তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নির্মাতারাও তার জন্ম কিংবা মৃত্যুদিনে নানাভাবে স্মরণ করেন।

শাকিব খান:

তানভীন সুইটি:

চঞ্চল চৌধুরী:

আহসান কবীর:

চয়নিকা চৌধুরী:

সাজু খাদেম:

জাকিয়া বারী মম:

ইমন:

মাবরুর রশিদ বান্নাহ:

ইমতিয়াজ বর্ষণ: